ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কয়রার মহারাজপুর

ভিডব্লিউবির সুবিধাভোগীরা পাচ্ছেন না সঞ্চয়ের টাকা

ভিডব্লিউবির সুবিধাভোগীরা পাচ্ছেন না সঞ্চয়ের টাকা
×

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫ | ০২:৪৪

খুলনার কয়রার একটি ইউনিয়নে ভালনারেবল ওমেনস প্রোগ্রামের (ভিডব্লিউবি) সুবিধাভোগী ৫২০ নারী সঞ্চয়ের ৩৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা ফেরত পাননি। তাদের ভাষ্য, কর্মসূচির কার্যক্রম গত ৩০ জুন শেষ হলেও ওই টাকার জন্য ধরনা দিতে হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সময়ক্ষেপণ করছেন। 

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ৫২০ জন সুবিধাভোগী ছিলেন। দুই বছর মেয়াদি এ কর্মসূচি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বিশেষ কারণে তা ছয় মাস বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হয়। এ সময়ে প্রতিজন সুবিধাভোগী ২২০ টাকা হারে ৩০ মাসে ৬ হাজার ৬০০ টাকা সঞ্চয় জমা দেন। ওই টাকা সুবিধাভোগীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার নিয়ম। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান তা জমা রাখেন নিজের কাছে। 

সুবিধাভোগী নারীরা জানান, প্রতি মাসে তাদের ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার সময় জনপ্রতি ২২০ টাকা করে জমা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি শেষ হলে এই টাকা তাদের এককালীন ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু ওই টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে কিনা, এ বিষয়ে জানতেন না। 

ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজমা খাতুন, রেহেনা বেগম, ফাইমা খাতুন জানান, গত জুনে চাল দেওয়ার পর তাদের বলা হয়, আর চাল পাবেন না তারা। সঞ্চয়ের টাকা ফেরতের বিষয়ে ইউপি সদস্যের কাছে জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের কাছে যেতে বলেন তিনি। পরে চেয়ারম্যানের কাছে যান। তিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু তারা জানতে পেরেছেন ব্যাংকে তাদের টাকা জমা হয়নি।  

৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাজেদা খাতুন, মনোয়ারা, সালমাসহ কয়েকজনের অভিযোগ করেন, তাদের প্রতি মাসের সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংকে জমা রাখার কথা বলে চেয়ারম্যান নিজের কাছে জমা রেখেছেন। এখন টাকা চাইতে গেলে ব্যাংকের অজুহাত দিচ্ছেন তিনি। 

মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদের কাছাকাছি কোনো ব্যাংক না থাকায় সুবিধাভোগীদের সঞ্চয়ের টাকা পরিষদের তহবিলে জমা রাখা হয়। পরে ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখায় কিছু টাকা জমা হয়। ব্যাংক থেকে ওই টাকা তুলে সুবিধাভোগীদের ডেকে ফেরত দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, একটি ওয়ার্ডের টাকা একজন ইউপি সদস্যের কাছে জমা আছে।

ইসলামী ব্যাংকের অন্তাবুনিয়া বাজার এজেন্ট শাখায় কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের নামে হিসাব খোলার বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কিছু জানাতে পারেননি। এজেন্ট শাখার ইনচার্জ মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের শুরুতে বেশ কয়েকটি হিসাব খোলা হয়। তবে কত টাকা জমা আছে তা বলতে চাননি। 

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মহারাজপুর ইউনিয়নের সুবিধাভোগীরা সঞ্চয়ের টাকা ফেরতের জন্য অফিসে আসা-যাওয়া করছেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে টাকা জমা রাখা হয়েছে। তাঁকে টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। 

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকী এ বিষয়ে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরই সুবিধাভোগীরা সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পাবেন। কিন্তু ওই ইউনিয়নের সুবিধাভোগীরা কেন টাকা ফেরত পাচ্ছেন না, বিষয়টির খোঁজ নেবেন। 

আরও পড়ুন

×