ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাবার কুড়ালের কোপে মৃত্যু

বই-খাতা রইল পড়ে, কাফনে বিদায় শিশু

বই-খাতা রইল পড়ে, কাফনে বিদায় শিশু
×

নিহত মোবারক হোসেনের বই-খাতা ও স্কুল ব্যাগ। ছবি: সমকাল

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫ | ২১:০৩ | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৫ | ২১:০৮

বই-খাতাগুলো এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে খাটের ওপর; পাশে স্কুল ব্যাগটাও। আলনায় টানানো স্কুলের পোশাক আর এক কোণে সেই ছোট ছাতাটি, যেটা হাতে নিয়েই বাবার মাথায় ধরতে গিয়েছিল মোবারক। কিন্তু ছাতার বদলে বাবার কুড়ালের কোপেই থেমে গেল তাঁর স্কুল-ফিরতি দিনগুলো। নিভে গেল জীবন প্রদীপ। বুধবার ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামে।

নিহত মোবারক হোসেন স্থানীয় স্বপ্নসিঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। ঘটনার সময় বাড়ির পাশে বৃষ্টির মধ্যে ভিজতে ছিলেন মোবারকের বাবা নূরুল আমিন। ছাতা হাতে গিয়ে বাবার মাথার ওপর ধরে– আর তখনই হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলের মাথায় কুড়াল দিয়ে কোপ মারেন তিনি। মোবারককে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ নূরুল আমিনকে আটক করে।

এ ঘটনায় মোবারকের মা শোকে পাগলপ্রায়। একমাত্র ছেলের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি কিছুই খাননি। বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। শুধু বিলাপ করে বলছিলেন, বৃষ্টিতে কাঁপছিল বাপ, তাইতো ছাতা নিয়ে দৌড়াল। কে জানতো সেই ছাতাই ওর মৃত্যুর কারণ হবে? তিন বছর বয়সী ছোট বোন নোভা এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি ভাই আর নেই। সে শুধু বলে, ‘আম্মু, ভাইয়া কোথায় গেছে?’ মাঝেমধ্যে গিয়ে মোবারকের খালি বিছানায় বসে থাকে। মা ছাড়া আর কারও কোলে ঘুমাতে চায় না। 

শিশুটির দাদা ইছব আলী জানান, তাঁর ছেলে অভিযুক্ত নূরুল আমিন আগে থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর চিকিৎসাও করানো হয়েছিল। কিছুদিন ভালো থাকলেও সম্প্রতি আবার অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। এমন ভাষ্য স্থানীয় বাসিন্দাদেরও।

বৃহস্পতিবারও মোবারকের স্কুল খোলা ছিল। সহপাঠীরা সবাই যখন স্কুলে, তখন মোবারকের লাশ পড়ে ছিল মর্গে। তার ছোট-ছোট সহপাঠীরা জানে, সে আর কখনও ক্লাসে ফিরবে না। এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মোবারকের জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, ঘটনার দিন রাতেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুটির চাচা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


 

আরও পড়ুন

×