ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে নিখোঁজ জেলের স্বজনের

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি

অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে নিখোঁজ জেলের স্বজনের
×

.

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | ০০:১৭

বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হন জেলে কামাল হোসেন (৪০)। ২৫ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পশ্চিমে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। এর ১০ দিন পরও কামালের সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছেন ছেলে তানভীর হোসেন। তিনি জীবিত, নাকি মৃত– এ নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘে ঢাকা পড়েছে পরিবার।
কামাল লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরফলকনের বাসিন্দা। একই পরিণতি বরণ করেছেন তাঁর তিন সহকর্মী। তারা হলেন– মধ্য চরফলকনের জেলে দিদার হোসেন (৩৮), চরফলকনের মো. সেলিম (৫০) ও মো. সোহেল।
দিদার হোসেনের শ্বশুর আবুল বাসার জানান, তাঁর জামাতা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দিদারের স্ত্রী ও তিন সন্তানের কান্না থামছে না। মেয়ে ও নাতিদের ভবিষ্যৎ নিয়েই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বাসারের। 
ট্রলারটির মালিক কমলনগরের পাটারীরহাট এলাকার রুবেল মাঝি। ১৭ জন জেলেকে নিয়ে তিনি ১০ জুলাই গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যান। এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে ২৫ জুলাই তারা তীরে ফিরে আসছিলেন। এদিন সকালে তাদের ট্রলারটি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পশ্চিমে গ্যাস পাম্পের অদূরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে। তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি কাত হয়ে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারের মাঝিসহ ১৩ জেলে অন্য জেলেদের সহায়তায় সাঁতরে আরেকটি ট্রলারে ওঠেন। কিন্তু চার জেলে উঠতে পারেননি। 
রুবেল মাঝি জানান, সাগর উত্তাল থাকায় ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ দুর্ঘটনায় তাঁর সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তিনিসহ ১৩ জেলে কোনোমতে জীবন বাঁচালেও অন্য চারজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সন্ধান মেলেনি ৮০ লাখ টাকা দামের ট্রলারটিরও। এলাকায় ফেরার পর থেকে তিনি নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
চরফলকন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন বাঘা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের জন্য স্বজনের কান্না থামছে না। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা পাচ্ছেন না।

আরও পড়ুন

×