‘চাঁদা না দেওয়া’য় চুরির অপবাদ দুই কিশোরকে
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫ | ০৫:৫৩
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় চাঁদা না দেওয়ার চুরির অপবাদ দিয়ে দুই কিশোরকে পিটিয়ে পুলিশে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সাটুরিয়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের স্বজনরা এমন তথ্য দিয়েছেন। এ সময় তারা ওই কিশোরদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন।
সেখানে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র (১৬) ও একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে (১২) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মো. শফিকুল ইসলাম, মান্নান, জীবন আহম্মেদ, নুরুল ইসলাম, মামুন, উজ্জল, মাহবুব ইসলাম ও মিলনসহ অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচ ব্যক্তি। তারা ওই দুই কিশোরকে বরাইদের সাভার বাজারের একটি সারের দোকানে আটকে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে রাজি না হলে শফিকুলের দোকানে প্রায় ছয়-সাত ঘণ্টা শারীরিক নির্যাতন করে পুলিশে দেওয়া হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক দুজনকে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন। ওই রাতেই তাদের বিরুদ্ধে চুরি মামলা নিয়ে পুলিশ পরদিন আদালতে পাঠায়। বিচারক তাদের বয়স বিবেচনায় নিয়ে শিশু সংশোধনাগারে পাঠিয়েছেন।
ওই কিশোরদের স্বজনের ভাষ্য, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে ২৫ জুলাই তারা কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ দেন। এতে ১ নম্বরে শফিকুল ইসলামের নাম দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ তা আমলে না নিয়ে জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন।
এক কিশোরের বাবার অভিযোগ, তাঁর বাড়ির পাশে কেনা জমি দখল নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল। ওই জমি দখল করে দেওয়ার নামে আব্দুল মান্নান নামের একজন ফোনে এক লাখ ৮৬ হাজার টাকা চাঁদা চায়। না দিলে জমিটি দখলের হুমকি দেয়। ওই টাকা না দেওয়ায় তাঁর ছেলেকে চুরির মামলায় ফাঁসিয়েছে।
অপর কিশোরের বাবার ভাষ্য, তিনি তামাক ও গরুর ব্যবসা করেন। উজ্জ্বল তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন। তিনি না দেওয়ায় তাঁর ছেলেকেও চুরির মামলায় ফাঁসিয়েছে।
এ বিষয়ে মান্নান ও উজ্জ্বলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে শফিকুল ইসলামের দাবি, দুই কিশোরই চোর। বরাইদ ও সাভার এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে। গত ২৩ জুলাই তাঁর ছেলের দোকানে সিঁধ কেটে একটি ল্যাপটপ, এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও পাঁচটি মোবাইল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করলে পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে।
সাটুরিয়া থানার ওসি মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে ওই দুজনকে চুরির মামলায় আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত তাদের শিশু শোধনাগারে পাঠিয়েছেন। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি অভিযোগ ২৫ জুলাই পেয়েছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে।
- বিষয় :
- সাটুরিয়া
