গল্লামারী মৎস্য খামারে তালা দিয়েছেন খুবি শিক্ষার্থীরা
.
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫০
খুলনা নগরীর গল্লামারীতে অবস্থিত সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার দুপুরে চার-পাঁচশ শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত মৎস্য ও বীজ উৎপাদন খামারে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা প্রশাসনিক ভবন থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেন। পরে খামারের প্রশাসনিক ভবন থেকে সাইনবোর্ড খুলে ফেলে সেখানে ‘শহীদ মীর মুগ্ধ হল’ লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
মৎস্য খামারের প্রায় ১০ একর জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে হস্তান্তরের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে গত বছর নভেম্বরে শিক্ষার্থীরা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিবের কাছে স্মারকলিপি, মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে জমি হস্তান্তরের অনুরোধ জানায়। চলতি বছরের মার্চে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার খুলনায় এলে তাঁর কাছে একই দাবি জানানো হয়। উপদেষ্টা দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে সমাধানের আশ্বাস দেন। তারপরও সমস্যার সমাধান হয়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী। পাঁচটি হলে মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। বাকিদের ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া বাড়ি ও মেসে থাকতে হয়। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ১০ দশমিক ৩৫ একর জায়গা মৎস্য ও বীজ উৎপাদন খামারকে দেওয়া হয়েছে। জায়গাটি তেমন কোনো কাজে ব্যবহার হয় না। ওই জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে হস্তান্তর করলে আবাসন সংকট নিরসন, গবেষণাগার সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা যেত। প্রায় এক বছর ধরে দাবি জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ ভ্রুক্ষেপ করছে না। এ জন্য আমরা নিজেরাই জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে নিয়ে নিয়েছি।
এ ব্যাপারে মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার খুলনা সদরের ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসে আমাদের বের করে দেয়। তারা কর্মকর্তাদের সব কক্ষ এবং প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা দিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি ঢাকা কার্যালয়ে জানানো হয়েছে। আপাতত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই বাইরে অবস্থান করছেন।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক নাজমুস সাদাত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা খামারের জায়গাটুকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিল। দাবি পূরণ না হওয়ায় তাদের ক্ষোভ ছিল। তারপরও অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে আমরা নিষেধ করেছি, কিন্তু তারা শোনেনি। শিক্ষার্থীদের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।
- বিষয় :
- খামারবাড়ি
