ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

পার্কিংয়ে থাকা গাড়িতে দুই লাশ 

দালালচক্রের হাতে জাকির ও তার বন্ধু খুন হন, দাবি স্বজনের

দালালচক্রের হাতে জাকির ও তার বন্ধু খুন হন, দাবি স্বজনের
×

মৌচাকে হাসপাতালের পার্কিংয়ে থাকা এই গাড়িতে পাওয়া যায় দুই লাশ। ছবি-সমকাল

নোয়াখালী প্রতিনিধি ও চাটখিল সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ | ২২:১১

রাজধানীর মৌচাকে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের পার্কিংয়ে থাকা গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন গাড়িচালক জাকির হোসেন। সেই টাকা ফেরত চাওয়ায় জাকিরকে এবং সঙ্গে থাকা তাঁর বন্ধু মিজানুর রহমানকেও হত্যা করা হয়।

গাড়িটির মালিক জোবায়ের আল মাহমুদ জানিয়েছেন, শেষবার কথোপকথনের সময় জাকির বলেছিলেন, বেলা ১১টা পর্যন্ত তারা দুজন গাড়িতেই ঘুমাবেন। এরপর অনেকবার কল করেও তাকে আর পাননি। 

রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক সমকালকে বলেন, এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। সেইসঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মৃত দু'জনের মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে জানার চেষ্টা চলছে সর্বশেষ কার কার সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। এ ঘটনায় জাকিরের বাবা আবু তাহের অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা করেছেন। স্বজনের দাবিসহ সম্ভাব্য সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করছে পুলিশ। 

এর আগে সোমবার ওই হসপিটালের পার্কিংয়ে থাকা প্রাইভেটকার থেকে যাত্রী মিজানুর রহমান ও চালক জাকির হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ কারণে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়, তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

জাকিরের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের লটপটিয়া গ্রামে। মঙ্গলবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা কুসুম আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বারবার অচেতন হয়ে পড়ছেন। একই চিত্র ছিল মিজানুরের বাড়িতেও। জাকিরের বড় ভাই শাহাদাত হোসেন জানান, তাঁর ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার কথা বলে ফেনীর সুমন নামে এক ব্যক্তি ২৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিতে গড়িমসি করায় জাকির টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে সুমনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ দেখা দেয়। সুমন নোয়াখালীর মাইজদীর রাসেল ও চাটখিলের নয়নপুরের মুন্সি বাড়ির ফরহাদের মাধ্যমে জাকিরকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেন। পাওনা টাকা চাওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে জাকিরকে খুন করা হয়েছে। সুমন ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনলে খুনের রহস্য উদঘাটন হবে। 

জাকিরের বাবা আবু তাহেরের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ায় জাকিরের পাসপোর্ট আটকে রেখেছিলেন সুমন। টাকা যাতে ফেরত দিতে না হয় সেজন্য সুমন ও তার লোকজন জাকিরকে হত্যা করে গাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। জাকিরকে হত্যার সময় তাঁর বন্ধু মিজান দেখে ফেলায় তাকেও খুন করা হয়। 

মিজানের গ্রামের বাড়ি চাটখিল উপজেলার ২ নম্বর রামনারায়নপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোমাতলী গ্রামে। মঙ্গলবার সকালে মিজানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মিজানের মা জাহানারা বেগম ও বড় বোন রোজিনা আক্তার আর্তনাদ করছেন। 

সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী আতাউল করিম বলেন, চাটখিলের গোমাতলী গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে জোবায়ের (৭) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই রোগীকে নিতে তার গ্রামের বাড়ি থেকে একটি প্রাইভেটকার আসে, যা হাসপাতালের পার্কিংয়ে ছিল। সেই গাড়ি থেকে চালক ও তার বন্ধুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে গতকাল দু'জনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মৃতদেহে আঘাতের তেমন কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, হাসপাতালে ধূমপানের কোনো স্থান না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মী নিচে গিয়ে ধূমপান করেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে সন্দেহজনক কিছু মনে হয়নি। গাড়ির এসি থেকে বিষক্রিয়া নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু, তা তদন্তে জানা যাবে।

আরও পড়ুন

×