ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবি 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর অবরোধ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর অবরোধ
×

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি-সমকাল

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ | ১৪:০১ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৫ | ১৪:২৩

স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার দ্রুত অনুমোদন ও পূর্ণ-বাস্তবায়নের দাবিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর অবরোধ করে। এতে যমুনা সেতু পারাপার হয়ে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চল অভিমুখ সড়ক পথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করার পর মুলতবি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। 

বাসে আটকে পড়া যাত্রীরা জানান, সেতুর পশ্চিমপাড়ে সয়দাবাদ-গোলচত্বরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচির কারণে ঢাকা-উত্তরাঞ্চলগামী ট্রাক-বাস আটকে পড়ায় যাত্রী দুর্ভোগ শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এখানে উপস্থিত থাকলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। 

জানা যায়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন ও যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামানসহ প্রশাসনের উপস্থিত কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের বুঝালে সোয়া ১টার দিকে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, আমদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করার পর তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। 

তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা গেছে আগামী ১৭ জুলাই একনেক সভায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপিত হতে পারে। 

অবরোধ কর্মসূচি পালন কালে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংগীত বিভাগের হৃদয় সরকার ও আব্দুল মমিন, অর্থনীতি বিভাগের সুজানা ও হাসান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মুইজ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আবেদ, সৃষ্টি ব্যানার্জি, সাদমান, জাকারিয়া ও মেরাজ বক্তব্য রাখেন। 

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৯ বছরেও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হয়নি। নির্মাণ কাজের ডিপিপি সাড়ে দশ হাজার কোটি টাকা থেকে সাত বার সংশোধিত হয়ে সোয়া পাঁচশত কোটি টাকায় রূপান্তর করা হয়। বিষয়টি গত ২৬ জুলাই একনেক সভায় উঠলেও শেষ পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি।

গত ২৬ জুলাই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি বর্জনের মধ্য দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। গত ১৮ দিন থেকে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ভবন সংলগ্ন বগুড়া–নগরবাড়ী মহাসড়কে অবরোধ, পথ নাটক, শেকল ভাঙার গান এবং প্রতীকী ক্লাস আয়োজন করেন। এরপর তারা হাটিকুমরুল গোলচত্বরে মানববন্ধন ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে। এছাড়া মহাসড়কে নবীন বরণ ও সেমিনার করে। উল্লাপাড়া স্টেশনে বুধবার সকাল থেকে ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ঈশ্বরদী রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। 

আরও পড়ুন

×