ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

একটি লাশ, অনেক প্রশ্ন

একটি লাশ, অনেক প্রশ্ন
×

ফাইল ছবি

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৩৯

রাতে মায়ের সঙ্গে কথা হয় ২০ তারিখে বাড়ি আসবে মেজ ছেলে রতন চন্দ্র সাহা। এর ছয় দিন আগে স্টেশনের কাছে রেললাইনের পাশে একটি ধানক্ষেতে পড়ে ছিল ওই যুবকের লাশ। স্টেশন থেকে বাড়ির দূরত্ব মাত্র পৌনে এক কিলোমিটার। এত কাছাকাছি এসেও মায়ের সঙ্গে শেষ দেখাটা হয়নি তাঁর। কী হয়েছিল তাঁর সঙ্গে জানে না কেউ। 

এমন রহস্যময় ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ফাতেমানগর রেলস্টেশন এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে রতন চন্দ্র সাহার (২৭) লাশ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, কাঁঠাল ইউনিয়নের নলছিড়া গ্রামের মতিলাল চন্দ্র সাহার মেজ ছেলে রতন চন্দ্র সাহা। ১০-১২ বছর আগে এসএসসি পাসের পর বাড়ি ছাড়েন। পোশাক কারখানায় চাকরির পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সর্বশেষ গাজীপুর শ্রীপুরের পূর্বকান্দা আরমাধা নামে একটি স্পিনিং মিলে কোয়ালিটি কন্ট্রোলার পদে চাকরি করতেন। 

স্থানীয়দের তথ্যমতে, এরই মধ্যে কোনো এক সময়ে রতন চন্দ্র সাহা সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে জামালপুরের এক মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করেন। এতে পরিবারের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ে। তবুও মাঝেমধ্যে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি আসতেন। গত বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে মা প্রণতি সাহা ফোন করেছিলেন রতনকে। এ সময় জানিয়েছিলেন চলতি মাসের ২০ তারিখ বাড়িতে আসবেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে রেললাইনের পাশে ধানক্ষেতে পড়ে থাকা যুবকের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পকেটে থাকা কোম্পানির আইডি কার্ডের সূত্র ধরে শনাক্ত হয় তাঁর পরিচয়। পরে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিকেলে ত্রিশাল থানায় ছুটে আসেন জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা গ্রামের হানিফ উদ্দিনের মেয়ে নিপা খাতুন। তিনি রতনকে স্বামী দাবি করে পুলিশকে জানান, গত বছরের ১৫ জুন তারা বিয়ে করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর রতন চন্দ্র সাহা নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইউসুফ হাসান রতন। বিয়ের পর থেকে তারা একসঙ্গে থাকেন শ্রীপুরের একটি বাসায়। মাসখানেক ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাবার বাড়ি জামালপুরে অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে রতনের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থানায় আসেন তিনি।

রতনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ, বিয়ের বিষয়ে জানতে এবং রহস্যের জট খুলতে পুলিশের টিম শ্রীপুরে যায়। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সত্যতা ও বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। 
এছাড়া পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই দম্পতির ভাড়া বাসার মালিক ও আশপাশের লোকজন আজই (বৃহস্পতিবার) প্রথম জানলেন রতন সনাতন ধর্মের অনুসারী ছিলেন। কেননা তিনি নামাজ পড়তেন, কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং গরুর মাংসও খেতেন। স্ত্রী নিপা ছিলেন জামালপুরে আর মায়ের সঙ্গে যদি রাত সোয়া ৮টার সময় রতনের কথা হয়ে থাকে যে, তিনি শ্রীপুর থেকে ২০ তারিখ বাড়িতে আসবেন। পরদিন ভোরে কীভাবে তাঁর লাশ মিলবে বাড়ির অদূরে? এ রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে রতনের মামা অরবিন্দু সাহা বলেন, ‘বুধবার রাতেই আমার বোনের সঙ্গে ভাগিনা রতনের কথা হয়। তার তো বাড়িতে আসার কথা ছিল আগামী ২০ তারিখ। তার ছয় দিন আগেই কেন হঠাৎ চলে এলো।’

ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোবারক হোসেন জানান, সুরতহালের সময় তাঁর একটি হাত ভাঙা ও কপালের দিকে মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। একজন মুসলিম নারী নিহত রতনের স্ত্রী দাবি করার বিষয়টি কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত হতে পুলিশের টিম শ্রীপুর গেছে।

আরও পড়ুন

×