১৭ বছরেও দূরত্ব ঘুচল না দুই শীর্ষ নেতার
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। ছবি: সমকাল
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:২৬ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৫ | ১৪:৫৭
বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলা নিয়ে বরিশাল-৩ নির্বাচনী আসন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রার্থী হন বিএনপির দুজন। বাবুগঞ্জের সন্তান সেলিমা রহমান পান দলীয় প্রতীক এবং মুলাদীর জয়নুল আবেদীন লড়েন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে। দুই হেভিওয়েট নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামায় সেবার আসনটি হাতছাড়া হয়ে যায় বিএনপির।
সেলিমা রহমান বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং জয়নুল দলের ভাইস চেয়ারম্যান।
দুই নেতার সেই দূরত্ব ১৭টি বছরেও ঘোচেনি। এবার আরেক নির্বাচন সামনে রেখে তাঁদের অনুসারীরা আলাদাভাবে সক্রিয় রয়েছেন। শনিবার দুই পক্ষ একই সময়ে বাবুগঞ্জ উপজেলার ভিন্ন স্থানে পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। দুটি কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা ছড়ালেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তা সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের শহীদ আলতাফ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে সেলিম রহমান বলেন, নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা সহ্য করা হবে না। বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির সমর্থনে এ মতবিনিময় সভা হয়।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এস এম শফিউল আজম শাহিন এতে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির ১ নম্বর সহসাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার, মুলাদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার খান, বরিশাল জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মহসিন আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম লিপন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মিজানুর রহমান মজনু, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য পারভেজ মৃধা, মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরদার, দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন খান, কেদারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিল্টন, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আরিফুর রহমান রতন তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এইচ এম রিয়াজ মাহমুদ, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রিপন প্রমুখ।

অন্যদিকে, বাবুগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সেখানে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব সংস্কারের দায়িত্ব বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নয়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যতটুকু সংস্কার দরকার, ততটুকু সংস্কার করে দ্রুততম সময়ে নির্বাচন দিতে হবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান, সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রেশমা রহমান, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল আলম ফকির, আবদুল করিম হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম খান রাকিব, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রাফিল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আল-আমিন, সদস্য সচিব ইয়াসির আরাফাত, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজাদ বিশ্বাস, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ফরিদ হোসেন, চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন, মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম খান, দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফারুক প্রমুখ।
দুই হেভিওয়েট নেতার এমন পৃথক কর্মসূচি নিয়ে বিব্রত দলের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, বাবুগঞ্জে বিএনপির এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ খান এবং আরেক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার। এই অভ্যন্তরীণ বিবাদ দলকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগসহ ভিন্ন দল থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের দলে ভেড়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। দুই গ্রুপই নিজ নিজ দলে লোক বাড়াতে এসব বিতর্কিত লোককে দলে জায়গা দিচ্ছেন। এই স্থানীয় বিবাদ আর গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও। এরই পরিণতি দেখা যাচ্ছে আজকে। উভয় পক্ষের রশি টানাটানিতে কোন পক্ষে গিয়ে কার বিরাগভাজন হবেন– এ নিয়ে দলের সবাই বিব্রত।
বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার বলেন, আমরা বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মী। দুঃসময়ে দলে আমরা সব সময় ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের মূল্যায়ন করার পক্ষে ছিলাম এবং আছি। তাদের নিয়েই জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, বিএনপির এই মূল সাংগঠনিক কর্মী সমাবেশের বাইরে অন্য কোথাও কর্মিসভা হচ্ছে কিনা, তা আমাদের জানা নেই। উপজেলা বিএনপির সঙ্গে কেউ কোনো আলোচনাও করেনি।
- বিষয় :
- নির্বাচন
- বাবুগঞ্জ
- সেলিমা রহমান
