ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

মানবিকতা

গরিবের বুফে

গরিবের বুফে
×

শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে যত ইচ্ছা তত খাওয়ার আয়োজন করে ফুড ব্যাংকিং কল্যাণ সংস্থা। রোববার দুপুরে নগরীর শিববাড়ী মোড় থেকে তোলা -সমকাল

 হাসান হিমালয়, খুলনা

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫ | ০১:১৯ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৫ | ০১:৪১

ঝকঝকে সার্ভিং বোলে সাজানো ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম। খাবার পরিবেশনের জন্য পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন উর্দি পরা তরুণ-তরুণী। দামি রেস্তোরাঁর মতো সব আয়োজন। ব্যতিক্রম শুধু অতিথিরা। কেউ খালি গায়ে, কেউ মলিন পোশাকে খাবার নিচ্ছেন। এরপর রিকশা অথবা ফুটপাতে মাদুরে বসে খাবার খেয়ে চলে যাচ্ছেন। মলিন মুখে এলেও চলে যাচ্ছেন হাসিমুখে।

দৃশ্যটি খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ের। রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিনামূল্যে এমন খাবারের আয়োজন করেছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফুডব্যাংকিং খুলনা কল্যাণ সংস্থা। প্রতি রোববার এই স্থানে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবারের আয়োজন করে তারা।

সংগঠনটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির মেঘ জানান, সিনেমা, নাটকে তারকা মানের হোটেলের বুফে খাবারের ছবি দেখা যায়। সেখানে প্রবেশের সামর্থ্য সবার থাকে না। নিম্ন আয়ের মানুষ যাতে দামি হোটেলের অনুভূতি বুঝতে পারেন, এ জন্য তারকা মানের হোটেলের আদলে বুফের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল রোববার ১৭০ জন মানুষ খাবার খেয়েছেন।
ফুডব্যাংকিং খুলনা কল্যাণ সংস্থা অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া খাবার দুস্থদের মাঝে বিতরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে তারা চালু করেছিলেন ‘গরিবের মেহমানখানা’। পরে সেটি খুলনা রেলস্টেশন এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। প্রতি বুধবার সেখানে ১৬০ জন মানুষ খাবার পান। এরপর তারা শুরু করেন ‘তৃপ্তির আহার’। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০ জনের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। গত সপ্তাহ থেকে বুফে কর্মসূচি শুরু করেছেন।

গতকাল দুপুর ২টায় শিববাড়ী মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, টাইগার গার্ডেন হোটেলের বিপরীতে ফুটপাতের ওপর খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে। সড়ক ও ফুটপাতের ওই অংশটি আগে থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। সেখানে দামি হোটেলের সার্ভিং বোল সাজানো হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবীদের কয়েকজন নির্ধারিত পোশাক, হাতে গ্লাভস, মাথায় নেটের ঢাকনা লাগিয়ে খাবার পরিবেশন করছেন। অন্যরা তাদের সহযোগিতা করছিলেন। পাশে ছোট ব্যানারে লেখা ছিল ‘গরিবের ফ্রি বুফে’।

দুপুর আড়াইটায় খাবার বিতরণ শুরু হয়। কয়েকজন লাইনে দাঁড়িয়ে যান। কিছু সময়ের মধ্যে রিকশাচালকরা এসে যোগ দেন। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এটি চলে।
রিকশাচালক ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘প্রথমে দেখে ভাবছিলাম, বড় হোটেলের নষ্ট খাবার সবাইরে দেচ্ছে। পরে দেহি না; ভাত, ডিম, সবজি সব গরম-তাজা।’

স্বেচ্ছাসেবী খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম রোজা বলেন, ‘অন্য সময় খাবার দিলে কাড়াকাড়ি হয়। এখানে সুশৃঙ্খল হয়ে খাবার নিচ্ছে।’
ফুডব্যাংকিং খুলনা কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শাহরিয়ার কবির মেঘ বলেন, অর্থ সংকটে এখন সপ্তাহে এক দিন ‘গরিবের বুফে’ চলছে। ভবিষ্যতে প্রতিদিন এ আয়োজন করতে চাই।

আরও পড়ুন

×