ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আগের তারিখে চার পদে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্তির আবেদন

আগের তারিখে চার পদে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্তির আবেদন
×

.

সনি আজাদ, চারঘাট (রাজশাহী) 

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৩৫

রাজশাহীর চারঘাটের জোতকার্ত্তিক বিএন উচ্চ বিদ্যালয় এমপিওভুক্তি করতে জালিয়াতির মাধ্যমে চারটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কাজে ৩২ মাস আগের পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও বাতিল বোর্ডের কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার বিভাগের দুজন কর্মকর্তা ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক বার্তায় কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা কর্মী ও নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। তখন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন শফিউল ইসলাম। ডিজির প্রতিনিধি নিয়ে নিয়োগ বোর্ডও গঠন করা হয়। রাজনৈতিক কারণে নিয়োগ দিতে পারেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত ছয় মাস পর বিজ্ঞপ্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনে ডিজির সঙ্গে ডিসির প্রতিনিধি যুক্ত করার বিধান চালু হয়। এ নিয়মের কারণে আগের নিয়োগ বোর্ড বাতিল হয়ে যায়। 
২০২৪ সালের ১৯ মে দৈনিক আমার সংবাদ ও দৈনিক বার্তা পত্রিকায় চারটি পদ শূন্য দেখিয়ে আবারও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন নিয়োগ বোর্ড গঠন করতে ১ জুলাই ডিসি বরাবর প্রতিনিধি চেয়ে আবেদন করেন। তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মহিনুল হাসান ৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা নূর তানজুকে ডিসির প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেন। ডিজির প্রতিনিধি করা হয় সরদহ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে। আগস্টে পট পরিবর্তন হলে সেই নিয়োগও বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে প্রার্থীদের কাছ থেকে উৎকোচ নেওয়ায় তারা নিয়োগ দিতে চাপ দেন। 
প্রধান শিক্ষক তৎকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল হোসেনকে আগের নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম দিয়ে বিষয়টি সমাধানে অনুরোধ করেন। তিনি রাজি হননি। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল সোহেল হোসেন বদলি হলে পবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্ব (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন তাঁর সঙ্গে যোগসাজশে নিয়োগ নিয়ে কাজ শুরু করেন। তারা ২০২২ সালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও বাতিল নিয়োগ বোর্ডের কাগজপত্রে গত সপ্তাহে এমপিওর জন্য আবেদন করেন। এ কাজে তৎকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম তাদের সহায়তা করেন। শফিউল ইসলামের বিরুদ্ধে জোতকার্ত্তিক বিএন উচ্চ বিদ্যালয়, ডাকরা উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। 
সাবেক ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার পুত্রবধূকে নিয়োগ দিতে প্রধান শিক্ষক ৯ লাখ টাকা নিয়েছেন। এখন আগের নিয়োগ বোর্ডের চার প্রার্থীর কাছ থেকে ৪০-৫০ লাখ টাকা নিয়ে জালিয়াতি করছেন।’ তিনি বলেন, ‘প্রথম নিয়োগ বোর্ড বাতিল হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয়বার বোর্ড গঠন করা হয়। এখন শুনছি প্রথম নিয়োগ বোর্ডে নিয়োগ দেখানো হচ্ছে। এই নিয়োগের কোনো ভিত্তি নেই। এ অনিয়ম নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’  
শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম বলেন, ‘যখন দায়িত্বে ছিলাম তখনই জোতকার্ত্তিক বিএন উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হয়তো গোপন রেখেছিলেন।’ দ্বিতীয়বার নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং ডিসি ও ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়নের পরও প্রথম নিয়োগের কার্যকারিতা থাকে কিনা জানতে চাইলে উত্তরে বলেন, ‘দ্বিতীয়বার নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই।’ 
মোতাহার হোসেন বলেন, ‘নিয়োগ কখন হয়েছে, আমার জানা নেই। আমার কাছে প্রধান শিক্ষক এমপিওর জন্য আবেদন নিয়ে এলে আমি শুধু সেটি ফরোয়ার্ড করেছি।’ দ্বিতীয় নিয়োগ বোর্ডের পত্রিকার কপি, ডিসি ও ডিজি অফিসের চিঠির কপিসহ সব প্রমাণ থাকার পরও এমপিওর আবেদন পাঠানো যুক্তিসংগত কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘কাগজপত্রগুলো আমি দেখিনি।’
প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘সব অভিযোগ মিথ্যা। কোনো অনিয়ম হয়নি। নিয়ম মেনেই নিয়োগসংক্রান্ত কাজ করা হয়েছে।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

আরও পড়ুন

×