এক শতক জমিতে তিনতলা ভবন, ধসের আশঙ্কা
গাজীপুরের টঙ্গীর মাজুখানে নিচু জমি ভরাট করে গড়ে তোলা তিন তলা ভবন সমকাল
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৫৭
মাত্র এক শতক নিচু জমি। নিয়ম লঙ্ঘন করে সেই ডোবায় বালু ফেলে তিনতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। চলছে চার তলার কাজ। আশপাশে ছাড়া হয়নি কোনো জায়গা। ভবনের সানশেড উঠেছে পাশের বাড়ির ওপরে। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবন নিয়ে আতঙ্কে প্রতিবেশীরা। তবে ভবন মালিক আবদুল আলীম এসবের তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ উঠেছে, গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর মাজুখান পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলীম ক্ষমতার দাপটে নিচু জমি ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেননি তিনি। ডোবা জমি ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন প্রতিবেশীরা। এ বিষয়ে জানতে আব্দুল আলীমকে গতকাল রাতে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর বারবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
এভাবে ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার জন্য গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একই এলাকার বাসিন্দা সাবরিন খান। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, এ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো আইন মানা হচ্ছে না। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা না মেনে তৈরি এই ভবনধসে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভবন ধসের আশঙ্কা প্রকাশ করে ও নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন মাজুখানের বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাবরিন খান।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, লতা হারবালের বিপরীতে দক্ষিণপাড়া শাহী জামে মসজিদ-সংলগ্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা তিনি। তাঁর বাসাবাড়ির দক্ষিণ সীমানা সংলগ্ন জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। উল্টো গায়ের জোর দেখানো হয়েছে। সাবরিন খানের বাবা দেলোয়ার খান বলেন, বিগত সরকারের সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করেন আবদুল আলীম।
ভুক্তভোগী এই পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সোমবার ঘটনাস্থলে যান পূবাইল থানার এসআই রফিক। দুই পক্ষ এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে তিনি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পান। অনিয়মে জড়িত আবদুল আলিমকে প্রয়োজনীয় নথিসহ থানায় ডাকা হবে বলে জানান তিনি।
অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন সংস্থার ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমরান শেখ। এ নিয়ে সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. মুরাদ জানান, অনিয়মে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
- বিষয় :
- ভবন নির্মাণ
