ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বৃষ্টি হলেই পানি চুইয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষে

বৃষ্টি হলেই পানি চুইয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষে
×

মির্জাপুর উপজেলার বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতা। ছবি: সমকাল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫ | ০২:৫৫

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত। মাঠে জলাবদ্ধতা, ভবনের পলেস্তারা উঠে যাওয়া, ওয়াশব্লক না থাকা, ছাদ বেয়ে বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে পড়াসহ নানা সমস্যার মধ্যে চলছে বিদ্যালয়টি। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের পাশেই বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মাঠে জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যার মধ্যেই শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। 

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৯৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পড়াশোনার মান সন্তোষজনক। বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা বেগমের সার্বিক প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালে ঝরেপড়া রোধে বিদ্যালয়টি সারাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। একইভাবে ২০১৯ সালে সার্বিকভাবে সারাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কার পায়। উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষক মণ্ডলী, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, সংস্কৃতি চর্চা ও খেলাধুলায় বিদ্যালয়টির সুনাম রয়েছে।

দেশসেরা হয়েও উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ে বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। খেলার মাঠ রাস্তা থেকে নিচু হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই জমে পানি। বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর বিদ্যালয়ের মাঠে অন্তত দুই মাস পানি জমে থাকে। গত এক মাস ধরে টানা বৃষ্টির কারণে জলাবন্ধতা যেন স্থায়ী হয়েছে। কতদিন জলাবদ্ধতা থাকবে তা অনিশ্চিত। শিশু শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ মাঠে না হয়ে শ্রেণিকক্ষে শুধু জাতীয় সংগীত দিয়ে শেষ হচ্ছে।

শিশুদের টয়লেট ও ওয়াশব্লক সমস্যা, জরাজীর্ণ ভবনে বসে পাঠদান করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টিতে একতলা ও দোতলা দুটি ভবন রয়েছে। দোতলা ভবনটি জরজীর্ণ হয়ে পড়েছে। শ্রেণিকক্ষের মেঝে দেবে যাচ্ছে। দেয়ালের রং উঠে পলেস্তারা খসে পড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয়টি একসময় শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত ছিল। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার মান নিয়ে চিন্তিত তারা। শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে গিয়ে বিদ্যালয়টির সুনাম হারাতে বসেছে। শিক্ষার মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সুনজর দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন সরকার জানান, বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি দেশসেরা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টি রাষ্ট্রপতির হাতে পুরস্কারপাপ্ত। দেশসেরা প্রতিষ্ঠান হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। বিদ্যালয়ের সামনে ছোট একটি খেলার মাঠ থাকলেও একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগের শিকার হতে হয় শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। তাছাড়া ওয়াশব্লক সংকট, ভবনের ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি পড়ে, একটি ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সংস্কার জরুরি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাম্মৎ জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জেনেছি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। বিষয়টি উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×