অনন্যা প্রকল্পের বরাদ্দ প্লট ভাড়া দিচ্ছে সিডিএ
.
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫ | ০০:১৪
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) দুই দশক আগে অনন্যা আবাসন প্রকল্প হাতে নেয়। তবে প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া প্লটে আজও কোনো ভবন তৈরি হয়নি। এসব প্লট বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আবাসিক সড়ক, কালভার্ট ও নালা নষ্ট হয়ে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর কোতোয়ালি মোড়ে সিডিএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এসব অভিযোগ তোলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এম আবদুল গফুর।
শুধু তিনি নন, শুনানিতে সিডিএ নির্মিত মার্কেট, আবাসিক এলাকা, ভবন অনুমোদনসহ বিভিন্ন সেবা নিয়ে ৯১ জন অভিযোগ তুলেছেন। কারও কারও অভিযোগ তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়েছে। কারও অভিযোগ সমাধানের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম।
সিডিএ সূত্র জানায়, ১৮ আগস্ট সিডিএর সেবা নিয়ে গণশুনানির নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর সেবাগ্রহীতারা ৯১টি অভিযোগ অনলাইন ও নিজে উপস্থিত হয়ে জমা দিয়েছেন। এগুলো নিয়ে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে সিডিএ চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. এম আবদুল গফুর অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৮ বছরেও অনন্যা আবাসিক এলাকায় মসজিদ, স্কুল, পার্ক, খেলার মাঠ, শপিংমল, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সামাজিক ও নাগরিক কোনো সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হয়নি। এটি সিডিএর একটি ব্যর্থ প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এখন মানুষের কেনা প্লটগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। যার কারণে প্লটগুলোসহ রাস্তা, কালভার্ট ও নালা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো কার অর্থায়নে সংস্কার করা হবে, তা এখন বড় প্রশ্ন। তা ছাড়া এই আবাসিকে ওয়াসার সংযোগ কখন দেওয়া হবে; বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দ পাওয়া গ্রহীতাদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা– এসব প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ড. এম আবদুল গফুর জানান, প্লটগুলো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সংস্কার করে দেবে বলে জানিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান। বাকি সমস্যাগুলো তিনি প্লট মালিকদের সঙ্গে বসে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
শুনানিতে মোহাম্মদ ফয়সাল হাছান নামে এক ব্যবসায়ী নগরের বিমানবন্দর সড়কের কাস্টম হাউস থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত যানজট ও জনদুর্ভোগ নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া সিডিএ নির্মিত মার্কেটগুলো চালু না হওয়া, সলিমপুর আবাসিকে পানি সংযোগ, অতিরিক্ত আদায় করা ভ্যাট-ট্যাক্স ফেরত না পাওয়া ও পাশাপাশি ভবন অনুমোদনের ক্ষেত্রে কেউ পাঁচতলা কেউ আবার ১০ তলা পাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে শুনানিতে।
- বিষয় :
- প্লট
