ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

উদ্যোগ

নদীবেষ্টিত জনপদে জুতা কারখানা দম্পতির

নদীবেষ্টিত জনপদে জুতা কারখানা দম্পতির
×

উলিপুরের জনতারহাট মুন্সিপাড়ার কারখানায় কাজ করছেন কয়েক শ্রমিক সমকাল

মোন্নাফ আলী, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫২

কুড়িগ্রামের উলিপুরের ধরলা নদীবেষ্টিত একটি নিভৃত গ্রাম জনতারহাট মুন্সিপাড়া। বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের এই অজপাড়াগাঁয়ের পরিচিতি উপজেলার গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। এটা সম্ভব হয়েছে সোলাইমান হোসেন ও রেগুনা বেগম রিনা নামে এক দম্পতির সুবাদে। বেকার যুবক ও তরুণীদের কর্মসংস্থানে তারা নিজ গ্রামে 
জুতা ও চামড়ার পণ্য তৈরির কারখানা স্থাপন করেছেন। তাদের এই সাহসী উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। 
সোলাইমান ও রিনার প্রতিষ্ঠিত জুতা তৈরির কারখানার নাম ‘বেস্ট  সুজ অ্যান্ড হেন্ডিক্রাফটস’। এই কারখানায় নারী-পুরুষ ও শিশুদের বাহারি মডেলের জুতা তৈরি হয়। অত্যাধুনিক মেশিনে উন্নতমানের জুতা তৈরি করা হচ্ছে কারখানাটিতে। এই কারখানার জুতা দেশের বিভিন্ন নামিদামি শোরুমে স্থান করে নিয়েছে।  সোলাইমান হোসেন জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে রাজধানীর একটি লেদার ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। এক সময় দুজনে মিলে নিজ গ্রামেই জুতার কারখানা করার সিদ্ধান্ত নেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেদের জমানো অর্থ ও জমি বিক্রি করে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জুতা তৈরির ৪০টি মেশিন কিনে কারখানা স্থাপন করেন। ২০২৩ সালে মাত্র ১০ জন শ্রমিক দিয়ে কারখানার যাত্রা শুরু হয়। 
বর্তমানে ৭৫ জন নারীসহ এ কারখানায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। 
সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় ৫০ শতক জমিতে তিন তলা একটি ভবন ও এক‌টি টিনশেড ভবন নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘বেস্ট সুজ অ্যান্ড হেন্ডি ক্রাফটস’-এর কারখানা।  দক্ষ শ্রমিকরা চামড়ার জুতা, স্যান্ডেল, লোফার, চামড়ার মোজা, লেডিস জুতা, ব্যাগ, মানিব্যাগ, ওয়ালেটসহ নানা পণ্য তৈরি করছেন। 
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের, মো. মমিনুল ইসলাম ও হাজেরা বেগম বলেন, এমন গ্রাম এলাকায় জুতার কারখানা হবে– এটা তারা স্বপ্নেও ভাবেননি।  কারখানায় কাজ করে প্রতিদিন একেকজন শ্রমিক ৫০০-৬০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। এতে এলাকার দরিদ্রতা দূর হচ্ছে। এলাকার মানুষ এতে খুশি। 
কারখানায় কর্মরত রিনা বেগম, আরজিনা বেগম, সাবিনা ইয়াসমিন, জান্নাতুন ফেরদৌসি, নুর আলম ও মাহফুজার রহমান বলেন, আগে ১৫০-২০০ টাকায় ক্ষেতে-খামারে কাজ করতেন তারা। গ্রামে কাজ না থাকলে ঢাকায় গিয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গ্রামে জুতার কারখানা হওয়ায় তারা বাড়িতে থেকেই কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। তারা আরও বলেন, এ কারখানাটিকে ঘিরে গ্রামের মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখছেন। একদিন কারখানাটি অনেক বড় হবে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। 

আরও পড়ুন

×