ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১২ কোটি টাকা

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১২ কোটি টাকা
×

টাকা গণনার সময় তোলা ছবি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫ | ০২:১৬

কিশোরগঞ্জ শহরের পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স এবার খোলা হয় চার মাস ১৮ দিন পর। পাওয়া যায় ৩২ বস্তা টাকা। সারাদিন গণনা শেষে দেখা যায়, তাতে রয়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

মসজিদ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মো. হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয় গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায়। এরপর বস্তাগুলো মসজিদের দোতলায় নিয়ে টাকা ঢেলে গণনা শুরু করা হয়। গণনা শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল ১১টি দানবাক্স খোলা হয়। তাতে পাওয়া যায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। পাওয়া গিয়েছিল বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা ও সোনা-রুপার অলংকার। অনেকের মনোবাঞ্ছা পূরণের আকুতি পেশ করা চিরকুট এবং চিঠিও পাওয়া গিয়েছিল। এবারও তেমনটি পাওয়া গেছে।

গত ৪ জুলাই থেকে দূরদূরান্তের ভক্তদের জন্য চালু করা হয়েছে ডোনেশন ওয়েবসাইট। জেলা প্রশাসক জানান, দানবাক্সের বাইরে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও গত শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া গেছে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকা। দানবাক্স এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাওয়া এসব টাকা রূপালী ব্যাংকে মসজিদের হিসাবে জমা রাখা হয়েছে। জনগণের দাবি অনুযায়ী অনুদানের জন্য একটি বাংলা ওয়েবসাইটও খোলা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

গতকাল দুটি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও রূপালী ব্যাংকের স্টাফসহ মোট ৪১০ জন সারিবদ্ধভাবে মেঝেতে বসে টাকা গণনায় অংশ নেন। তারা টাকাগুলো মুদ্রামান অনুযায়ী আলাদা করে রাখেন। সেগুলো ব্যাংকের কাউন্টিং মেশিনে গণনা করে ১০০টি নোটের পৃথক বান্ডেল বাঁধা হয়। পুলিশের পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন সেনা, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা। 

জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর দানবাক্স খোলার কথা থাকলেও এবার এইচএসসি পরীক্ষাসহ নানা কারণে খোলা হলো চার মাস ১৮ দিন পর। দানবাক্সের বাইরেও মানতকারীরা গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, কবুতর, দুধ এবং সবজিও দান করে থাকেন। এগুলো প্রতিদিন বিকেলে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করে মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়। এখন পর্যন্ত মসজিদের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯১ কোটি টাকা জমা আছে বলে জানান তিনি। 

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পাগলা মসজিদের সাড়ে ৫ একর জায়গা আছে। আরও জায়গা কেনা হবে। এখানে একটি ১০ তলা মাল্টিপারপাস মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এজন্য বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দলকে ডিজাইন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×