ইউএনওর মামলায় অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৪:৩৪
হালুয়াঘাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক। গতকাল সোমবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক ইউএনওর স্বাক্ষর স্ক্যান করে কাগজপত্রে বসিয়ে শিক্ষক এমপিওভুক্ত করা, এডহক কমিটি গঠনসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর কিছুদিন আগে ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দেন ইউএনও আলীনূর খান। পরে হালুয়াঘাট থানায় ইমদাদুল হককে প্রধান আসামি করে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে ইউএনওর পক্ষে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা করেন উপজেলা প্রশাসনের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর আবুল হাসনাত রনি। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার গভীর রাতে অধ্যক্ষ ইমদাদুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নে অবস্থিত বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১৯৯৯ সালে স্থাপিত হয়। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিম্ন মাধ্যমিক এবং ২০২২ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এমপিওভুক্ত হয়। ইউএনও আলীনূর খানের স্বাক্ষর জাল করে অধ্যক্ষ পাঁচজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারীর এমপিওভুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের পরিচালকের কাছে আবেদন করেন। আবেদনে যাদের নাম দেওয়া হয় তারা হলেন, প্রভাষক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, মোস্তফা হাসান, মো. ফারুক খান, বিউটি রানী সরকার, শেফালী খাতুন ও অফিস সহায়ক রিফাত হাসান।
খবরটি ইউএনওর নজরে এলে তিনি আবেদনগুলো ফেসবুকে শেয়ার করেন। এ নিয়ে উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থাপিত এই কলেজে ৪১ জন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনের মতো প্রভাষকের নিয়োগ জাল সনদে করা হয়েছে। ইউএনও এ বিষয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ কোনো সহযোগিতা করেননি। তদন্তে অধ্যক্ষ ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিনি সাময়িক বরখাস্ত হবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীনূর খান বলেন, অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক শুধু আমার স্বাক্ষর জাল করেছেন, বিষয়টি এমন নয়; তিনি জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটি গঠন করেছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করি এবং সত্যতা পাওয়ার পর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করি। অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময় স্বাক্ষর জাল করে বোর্ডের সুযোগসুবিধা আদায় করাসহ জাল সনদে এমপিওভুক্তি শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। এমন অনেক অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।
হালুয়াঘাট থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়ে হালুয়াঘাট থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। আমরা রাতেই প্রধান আসামি অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হককে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
