ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিচ্ছিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ, নৌকাই সম্বল

বিচ্ছিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ, নৌকাই সম্বল
×

বিস্তীর্ণ হাওরের জলে শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের একটি বাড়ি সমকাল

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৫

বাড়ির চারপাশে থই থই করছে হাওরের পানি। এই পানির কারণে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন তাদের ঘরবাড়িগুলো। বছরের প্রায় ছয় মাস এভাবেই থাকতে হয় টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের। ঘর থেকে বের হতে চাইলে নৌকা ছাড়া উপায় নেই তাদের। 
বর্ষার পরও বেশ কিছুটা সময় হাওরের পানি থেকে যায়। তার নিচে থাকে সড়ক, মাঠ সবই। চারপাশে শুধু অথৈ পানি। চলাচলের বাহন ছোট ছোট ডিঙি নৌকা। অসংখ্য পরিবার এখনও এভাবেই বিচ্ছিন্ন বসতিতে বসবাস করছেন। হাওরের এসব জনবিচ্ছিন্ন পরিবার আজও মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে এক অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে।
এসব পরিবারের সদস্যরা বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির তীব্র সংকটে থেকে দিন পার করেন। টিউবওয়েল  দূরে থাকার কারণে পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই দূষিত পানি ব্যবহার করতে হয়। যার ফলে নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে তারা আক্রান্ত হচ্ছে। পরিবারগুলোতে বিদ্যুতের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয়রা নিত্যদিন বিভিন্ন রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এসব ঘর মূল ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পরিবারের মানুষদের হাটবাজারে যেতে হয় ছোট ডিঙি নৌকায় ভর করে। উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের পাশে জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন সাগর মিয়া ও তাঁর স্ত্রী পপি বেগম। তারা জানান, অনেক বছর হলো এখানে বসবাস করছেন দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে। তাদের দুই মেয়ে উমেদপুর বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। তাদের নিয়ে চিন্তা হয় স্কুলে পাঠানোর সময়। এই জায়গায় নিজেরা মাটি কেটে কষ্টে গড়ে তুলেছেন একটি কুঁড়েঘর। সেখানেই থাকেন পরিবার নিয়ে।
পাঠাবুকা গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় মিয়া জানান, হাওরপারের মানুষ ছয় মাস পানির সঙ্গে বসবাস করেই অভ্যস্ত। এই সময় ছোট ছোট শিশুরা ডিঙি নৌকায় করেই স্কুলে যায়। অল্প বয়সেই তারা সাঁতার শিখে ফেলে, তাই পানির ভয় তেমন কাজ করে না। তবে অসচেতনতার কারণে অনেক সময় ঘরে বা আশপাশে দুর্ঘটনার শিকার হয় শিশুরা। ছয় মাস পানি থাকাকালীন মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। শুকনো মৌসুমে হাওরে ধান চাষ করেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, গ্রামগুলো জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এবং চারপাশে পানি থাকায় এসব পরিবার নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিবারগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×