শাস্তি পাচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতাসহ ৭৯ শিক্ষার্থী
.
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৫
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাস্তি পেতে যাচ্ছেন ৭৯ শিক্ষার্থী। তালিকায় ছাত্রলীগের ৩৩ পদধারী নেতার নামও রয়েছে। সনদ বাতিল ও বহিষ্কারাদেশসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হবে তাদের। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনে তাদের চিঠি দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। কমিটি ক ও খ এই দুটি ক্যাটেগরিতে ৭৯ হামলাকারীর নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২২তম সভায় উপস্থাপন করে। সেই সুপারিশমালা অনুমোদনের জন্য গত ২৯ মে ৫৯তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় উত্থাপন হয়।
প্রথম ক্যাটেগরিতে তালিকাভুক্ত ৪১ শিক্ষার্থী আন্দোলনে হুকুমদাতা, শিক্ষার্থীদের ওপর স্বশস্ত্র হামলা, অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। অনেকের কক্ষে অস্ত্র পাওয়া গেছে। তাদের সনদ বাতিল, স্থগিত ও আজীবন বহিষ্কার করে রাষ্ট্রীয় আইনে মামলা দেওয়া হবে। খ তালিকাভুক্ত ৩৮ জন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করেছেন। তাদের দুই অথবা তিন বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
তালিকাভুক্ত ছাত্রলীগের পদধারী নেতারা হলেন– বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এমএম মাসুদ রানা মিঠু, সহসভাপতি আসাদুল হাবিব আশিক, রাফসান জানি, শাহপরান, উত্তম কুমার পাল, সাকিব আহমেদ, মেহেদী হাসান অনিক, রশিদুল ইসলাম, সৈয়দ মুরসালিন হোসেন বাপ্পী, রাব্বি শেখ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রিয়াদ খান, মোরশেদুল আলম রনি, চন্দন বর্মণ, সুভ্র নিয়োগী, আতিকুর রহমান বাপ্পি, শেখ ইশতিয়াক আহম্মেদ, শেখ সৈয়দা ইসরাত, হুসাইন মিঠুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় ভৌমিক, রাসেল সরকার, লিরা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক এস তাফসিরুল-ই-আব্বাসী মৃধা, মনিরুজ্জামান, বখতিয়ার ফাহিম, মেহেদী হাসান, আল আমিন, রাকিব জামান, আনিসুজ্জামান, ফরহাদ আহম্মেদ মুন্না, হাবিবুল মোস্তারী ইভা ও জেবা তাসনিম।
অন্য শিক্ষার্থীরা হলেন– নাহিদ হাসান, সুজন রায়, ইয়াছির রাঙ্গা, রাইসুল ইসলাম রাসেল, উদয় শংকর রায়, মোনায়েম হোসেন পাভেল, অনুপম রায়, মহাদেব রায়, মো. রাকিব মিয়া, মো. তামিম তানভীর, মো. শাওন, অপূর্ব রায়, মো. জোবায়ের মাহমুদ, জিসান আহমেদ, মো. মাহমুদুল হাসান, তাহসিন আলম গুঞ্জন, সিফাত রেজা শুভ, সিরাজ উদ্দিন লিমন, তাহসিন ইবনে সিদ্দিক, আরিফ হোসেন, মো. কাওসার হোসেন, শফিকুল ইসলাম, ওম প্রকাশ সরকার, মো. তাহরীম ইমতিয়াজ তীব্র, মো. বাদশা আলমগীর, শিহাব উদ্দিন, রুবাইয়া আকতার তমা, আরাফাত করিম রুপো, আলতাফুর রহমান, মো. নাদিম হোসেন, মো. রিফুজার রহমান (রনি), সাকিল আহমেদ, শফিউল হাসান, আব্দুল্লাহ আলম মামুন, আবু তাহের, মৃদুল হোসেন, শাহিন আলম, মো. তামিম তানভীর, মো. সাগর আহমেদ, সবুজ মিয়া, সাকির আহম্মেদ, ইমন মেহেদী মহান, ফারদীন আহমেদ, মো. ইসলাম হোসেন, মো. আব্দুল মালেক ও ইলিয়াস কাঞ্চন।
এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. আবু হাসানকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। উপাচার্য প্রফেসর ড. এম এনামউল্লাহকেও ফোন করে সাড়া পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- শাস্তি
