ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফল

কাঞ্চননগরের পেয়ারা

কাঞ্চননগরের পেয়ারা
×

চট্টগ্রামের কাঞ্চননগরের পেয়ারা। লাল কাপড়ের বিশেষ পুঁটলিতে মুড়িয়ে বিক্রির জন্য বাজারে আনা হয় বিশেষ জাতের এই পেয়ারা। সম্প্রতি তোলা ছবি: সমকাল

 শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:২০ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৫২

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবাই এক নামে চেনে কাঞ্চননগরের পেয়ারা। পুষ্টিগুণে বেশ সমৃদ্ধ; স্বাদেও অনন্য। বিশেষ জাতের এই পেয়ারা চন্দনাইশের কাঞ্চননগর গ্রামকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। এ পেয়ারা বদলে দিয়েছে কয়েক হাজার চাষির ভাগ্য। অনেকে ঘুচিয়েছেন বেকারত্ব। 

ব্রিটিশ আমলে কাঞ্চননগরের ছোট একটি বাগানে পেয়ারা চাষ শুরু হয়। লাভজনক হওয়ায় এখন এ গ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে পাঁচ শতাধিক বাগান গড়ে উঠেছে। অনেক তরুণও  ঝুঁকছেন পেয়ারা আবাদে। বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় যাচ্ছে কাঞ্চননগরের পেয়ারা। 

প্রতিদিন ভোরে পাহাড় থেকে দলে দলে পেয়ারা নিয়ে ফিরতে শুরু করেন চাষিরা। লাল কাপড়ে বিশেষভাবে এক ধরনের পুটলিতে বেঁধে কাঁধে করে পেয়ারা নিয়ে আসেন তারা। পরে আশপাশের ছোট-বড় হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে হাজির হন। 

চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর পেয়ারা চাষ হয়েছে ৭২০ হেক্টর জমিতে। এবার প্রায় ১১ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবছর আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এক মৌসুমেই বিক্রি হয় প্রায় শতকোটি টাকার পেয়ারা। এর আগে ২০২৪ সালে ৭৩০ হেক্টর, ২০২৩ সালে ৭৫৫ হেক্টর এবং ২০২২ সালে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছিল।  

এ পেয়ারার সবচেয়ে বড় হাট বসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে লাগোয়া রওশন হাটে। ঢাকা, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চট্টগ্রামে যাওয়া-আসার সময় অনেক যাত্রীবাহী গাড়ি থামে এই হাটে। অনেকে পরিবার-পরিজনের জন্য চাহিদামতো পেয়ারা কিনে নিয়ে যান। চট্টগ্রাম মহানগর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, কক্সবাজার, চকরিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ, পটিয়া, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, বাঁশখালীসহ কয়েকটি অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা স্থানীয় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে  ট্রাকে নিয়ে যান পেয়ারা। শুধু রওশন হাটেই প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৬০০ ভাঁড় পেয়ারা বিক্রি হয়। 

ক্রেতার সুবিধার কথা চিন্তা করে নানা আকারের পুটলি করে পেয়ারা বিক্রির ব্যবস্থা করেন বিক্রেতারা। কোনো পুটলিতে ৩০ থেকে ৫০টি, কোনোটিতে ৫০ থেকে ১০০টি, কোনোটিতে আবার ১৫০ থেকে ৩০০টি পেয়ারা রাখা হয়। পাইকারদের জন্য বড় পুটলিতে ৫০০ থেকে দুই হাজার পেয়ারা রাখা হয়। পেয়ারার আকার ও মানের ওপর ভিত্তি করে পুটলির দাম নির্ধারণ করেন বিক্রেতারা। 

কাঞ্চনাবাদ এলাকার চাষি মিনহাজ উদ্দিন বলেন, পেয়ারা পরিপক্ব হওয়ার পর প্রতিদিন ভোরে শ্রমিকরা বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে আসে। ছোট-বড় যানবাহনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায় এ পেয়ারা।

আরেক চাষি হোসেন আহম্মদ বলেন, এক সময় শুধু কাঞ্চনাবাদ পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় কাঞ্চন পেয়ারার চাষ হতো। পরে উপজেলার আরও বেশ কিছু এলাকায় বাগান ছড়িয়ে পড়ে। লাভজনক হওয়ায় তরুণ থেকে বয়স্ক অনেকেই পেয়ারা চাষাবাদে যুক্ত হচ্ছে। 

চন্দনাইশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন বলেন, কাঞ্চননগরের পেয়ারা এই উপজেলাকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। বাজারে অনেক জাতের পেয়ারা থাকলেও এই পেয়ারার স্বাদ ভিন্ন। এটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও খুব সুস্বাদু।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আজাদ হোসেন বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে নতুন পলি জমার কারণে এখানকার মাটি খুবই উর্বর। এ কারণে এখানে পেয়ারার ফলন ভালো হয়। এতে চাষিরা কম খরচে বেশি লাভ পান।

আরও পড়ুন

×