ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাকৃবিতে ফের বহিরাগতদের হামলায় আহত ৩, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বাকৃবিতে ফের বহিরাগতদের হামলায় আহত ৩, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
×

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৫:৩৬ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১০:৩৭

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সংলগ্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের খেলার মাঠ উন্মুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনকারী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থীসহ মোট তিন জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সোমবার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। এর আগে রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে এই ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন- বাকৃবির কৃষি অনুষদের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রাশিদুল আলম রিফাত, একই অনুষদের শিক্ষার্থী নাহার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. বাবলু মিয়া। তারা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেবি কলেজের খেলার মাঠ উন্মুক্ত করার দাবিতে এলাকার কিছু যুবক সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছিল। এসময় বাকৃবি শিক্ষার্থী রিফাত তার এক নারী সহপাঠীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে আন্দোলনকারীদের ব্যারিকেটে লাথি মারেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবলু মিয়া পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন। তখন রিফাত তাকে ঘুষি মারলে তার নাক ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আহত ব্যবসায়ী বাবলু মিয়া জানান, তিনি সংঘর্ষ থামাতে গিয়েছিলেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী তাকে ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, “আহত হওয়ার পর ওই ছেলে আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।”

অন্যদিকে, শিক্ষার্থী রাশিদুল আলম রিফাত বলেন, আমি ক্যাম্পাসে ফেরার সময় একদল লোককে রাস্তা আটকে আন্দোলন করতে দেখি। আমি তাদের বলি যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করব, তাই ব্যারিকেট সরিয়ে পথ দিতে বলি। এতে আন্দোলনকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করে এবং আমার মাথা ফাটিয়ে দেয়। আমি নিজেকে বাঁচাতে গেলে একজন মুরব্বি (বাবলু মিয়া) আহত হন, যার কাছে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা চেয়েছি।

এদিকে, রোববার রাত ১০টায় এই হামলার প্রতিবাদে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনিতেই পরীক্ষা ও ক্লাস বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে এই ধরনের ঘটনা অপ্রত্যাশিত। আমি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছি। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তবে এলাকার কেউ আহত হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বলতে হবে।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর মো. মোখলেছুর রহমান জানান, বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×