ওএমএসের পণ্য শেষ হয় লাইন শেষ হয় না
.
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫০
ভোরের আলো ফুটতেই তিন শতাধিক নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়িয়েছেন আটা নেবেন বলে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। পরিবেশক বিক্রি শুরু করেন সকাল ১০টার দিকে। দুপুর গড়ানোর আগেই বরাদ্দকৃত ৫০০ কেজি আটা শেষ হয়ে যায়। অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।
মঙ্গলবার এ চিত্র দেখা গেছে সিরাজগঞ্জের পৌর এলাকার মঙ্গলবাড়িয়া ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্রে। কথা হয় আটা নিতে আসা মরিয়ম পারভীনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দোকান খোলার দুই ঘণ্টা আগে এসেছি। বৃষ্টি হচ্ছে, রাস্তায় কাদা। ভিজে একাকার হয়ে অবশেষে পাঁচ কেজি আটা পেয়েছি।’ বরাদ্দ ফুরিয়ে যাওয়ায় শতাধিক লোক আটা পাননি বলেও জানিয়েছেন মরিয়ম।
পরিবেশক হাদিউল হৃদয় জানান, সকালেই লাইনে দাঁড়িয়ে যান ৩২০ থেকে ৩৪০ জন নারী-পুরুষ। অথচ প্রতিদিনের বরাদ্দ ৫০০ কেজি আটা। ৫ কেজি করে দিলে সে আটা দেওয়া যায় মাত্র ১০০ জনকে। বাকিদের খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।
শুধু মঙ্গলবাড়িয়ায় নয়, মঙ্গলবার শহরের রঘুনিলী বাজার, কোহিত বাজার, তাড়াশ হাসপাতাল গেট, তাড়াশ বাজার, উপজেলা কমপ্লেক্সের বিক্রয়কেন্দ্রে একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ জন ওএমএসের পরিবেশকের মাধ্যমে পৌরসভার ৬টি মহল্লায় আটা বিক্রি শুরু হয়েছে। ২২ কর্মদিবসের মধ্যে তারা ২২ টন আটা বিক্রি করবেন। রেশনিং পদ্ধতিতে প্রতি একজন ডিলার এক দিনের জন্য ৫০০ কেজি আটা বিক্রি করতে পারেন। এলাকার যে কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে ৫ কেজি করে আটা কিনতে পারবেন। অথবা পরিবেশক তাঁর জন্য বরাদ্দ আটা ২৪ টাকা কেজি দরে ১০০ জনকে দিতে পারবেন।
খোলাবাজারে খোলা বর্তমান আটা বিক্রি হচ্ছে, ৪৫-৪৮ টাকা ও প্যাকেটজাত আটা ৫২-৫৫ টাকা কেজি। সেখানে ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্রের প্রতি কেজি আটা ২৪ টাকায় বিক্রি হয়। এ কারণে ৬টি বিক্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
তাড়াশ হাসপাতাল মোড়ের বাসিন্দা আনোয়ার ইসলাম জানান, এখানে বাজারের চেয়ে কম দামে আটা পাওয়া যায়। এ কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন বেশি আসছেন। তবে ভিড় অনেক বেশি। একই কথা বলেন এ কেন্দ্রে আসা সাবিনা খাতুন, রাবেয়া বেগমসহ অনেকে। তারা বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইকবাল হোসেন জানান, পরিবেশকদের বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
- বিষয় :
- ওএমএসের চাল
