ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নিষিদ্ধ দলের কাউকে বাসা দিতে মানা

ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে সহযোগী হিসেবে বাড়িওয়ালাকেও গ্রেপ্তার

নিষিদ্ধ দলের কাউকে বাসা দিতে মানা
×

সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে পুলিশ পক্ষ থেকে মাইকিং করতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত

আকরাম হোসেন রানা, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৪২

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ দলের কোনো নেতাকর্মীকে বাসা ভাড়া না দিতে পুলিশের মাইকিং নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কর্ণফুলী থানার করা এই মাইকিংয়ের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে নাগরিক অধিকার খর্ব হতে পারে। এমন মাইকিংয়ের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে।  তবে শুধু বাসা ভাড়া দেওয়ার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে এমন নির্দেশনা কোনো থানাকে দেওয়া হয়নি বলে জানান সিএমপি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। 

গত বুধবার বিকেলে কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক মোড় এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী শিকলবাহা এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, বুধবার বিকেলে মইজ্জারটেক মোড়ে মাইকিং করতে দেখেছি। 

এদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীকে বাসা ভাড়া দিতে নিষেধ করে মাইকিং করা হচ্ছে। ভাড়া বাসায় অবস্থান করে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের কোনো নেতাকর্মী সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও মাইকিং করে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

চরপাথরঘাটা এলাকার ভবন মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি বাসাভাড়া দিয়ে থাকি। প্রশাসন থেকে পরিচয়পত্র দিতে বলা হয়েছিল একবার। তবে ভাড়া দেওয়ার কারণে কখনও এভাবে গ্রেপ্তারের কথা শুনিনি।

নুরুল ইসলামের ভবনের ভাড়াটিয়া রাশেদ ইসলাম সৈন্যারটেক এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তিনি বলেন, ভাড়া নেওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি অনুলিপি দিয়েছিলাম। তবে বুধবার দেখলাম মাইকিং করা হচ্ছে। এ ধরনের কথা আগে শুনিনি।  

স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ তুহিন বলেন, অতীত থেকে সবার উচিত শিক্ষা নেওয়া। অতিরঞ্জিত কোনো কিছু ভালো না। 

এ ব্যাপারে কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ সমকালকে বলেন, বাড়ি ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের এই ধরনের কার্যক্রম এক দশক আগে দেখা গিয়েছিল। হঠাৎ করে প্রশাসন কেন এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছে, তা বুঝতে পারছি না। পুলিশের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় বাড়িওয়ালা ও নিরীহ রাজনৈতিক কর্মীরা যেন হয়রানির শিকার না হন, এ বিষয়ে প্রশাসনের সতর্কতা প্রত্যাশা করছি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সমকালকে বলেন, এ ধরনের কোনো ঘোষণা দেওয়ার এখতিয়ার পুলিশের নেই। যিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং যারা এই ঘোষণা দিয়েছেন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ছাড়া, এটি মৌলিক মানবাধিকারেরও লঙ্ঘন। রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া আর নাগরিক অধিকার খর্ব করা এক বিষয় নয়। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী সমকালকে বলেন, পুলিশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ সংগঠন ধরে নিয়ে যদি এই ধরনের কাজ করে, তবে এটা ভুল। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, দল হিসেবে নয়।

এ ব্যাপারে কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। সিএমপির উপকমিশনার (বন্দর) আমিরুল ইসলাম সমকালকে জানান, নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের ভাড়া দিলে বাড়িওয়ালা গ্রেপ্তারসহ যেসব বিষয় সামনে এসেছে, তা কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। এ ধরনের নির্দেশনা সিএমপি পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।  তবে যেসব এলাকায় ব্যাচেলর মেস আছে সেখানে নতুন ভাড়াটিয়া আসলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে, এটা সিএমপির প্রত্যেকটি থানায় জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×