ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিদ্যুতের ৮ খুঁটিতে আটকে গেছে ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প

বিদ্যুতের ৮ খুঁটিতে আটকে গেছে ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প
×

রায়েরবাগ শনির আখড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মধ্যে বিদ্যুতের আটটি খুঁটি থাকার কারণে থমকে আছে ইউটার্ন প্রকল্পের কাজ- সমকাল

শাহজাহান জনি, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫৮

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রায়েরবাগ শনির আখড়া এলাকায় মহাসড়কের মধ্যে ডিপিডিসির আটটি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। এসব খুঁটির কারণে আটকে আছে বিপরীত দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মাণাধীন ১৩ কোটি টাকার ইউটার্ন প্রকল্প। সঞ্চালন লাইনসহ বিদ্যুতের খুঁটিগুলো না সরানোর কারণে কয়েক মাস ধরে স্থবির অবস্থায় রয়েছে প্রকল্পের কাজ।

ডিপিডিসি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পের কাজ আগাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিন রায়েরবাগ শনির আখড়া এলাকায় নির্মাণাধীন ইউটার্ন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ওই এলকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন ও সাদেকুর রহমান রিয়াজ জানান, যাত্রাবাড়ী থেকে মাতুয়াইল পর্যন্ত চার কিলোমিটার অংশে মহাসড়কের ওপর দিয়ে সরাসরি পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। যে কারণে দনিয়া, কাজলা, রায়েরবাগ, কুতুবখালী, রসুলপুর, ছনটেক, দাসপাড়া, নয়াপাড়া শনির আখড়া ও গোবিন্দপুর এলাকার বিস্তীর্ণ ঘনবসতিপূর্ণ বাসিন্দাদের যাত্রাবাড়ীর ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়, সেই সঙ্গে যানজটের সম্মুখীন হতে হয়। ওইসব এলাকার লাখ লাখ মানুষ এপার-ওপার যেতে পারতেন না যানবাহনে। ইউটার্ন নির্মাণ শেষ হলে এখান দিয়ে গন্তব্যস্থলে সহজে আসা-যাওয়া করা যাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

ইউটার্ন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাশমত অ্যান্ড ব্রাদার্সের  স্বত্বাধিকারী হাশমত আলীর ভাষ্য, প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু মহাসড়কের মধ্যে (উত্তর পাশে) রানা ও ইউনাইটেড সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে আটটি বিদ্যুতের লাইনসহ খুঁটি থাকায় কাজ সমাপ্ত করতে পারছেন না। দ্রুত লাইনসহ বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরিয়ে দিলে ইউটার্ন প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ৫ শতাংশ কাজ আটটি বিদ্যুতের খুঁটির জন্য আটকে আছে। কাজ সমাপ্ত করা গেলে যানবাহন চলাচলের জন্য ইউটার্ন খুলে দিতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।’
ঠিকাদার হাশমত আলী সমকালকে জানান, অনেক টাকা লগ্নি করেও কাজ শেষ করতে পারছেন না শুধু বিদ্যুতের খুঁটিগুলো না সরানোর কারণে। কার্য সম্পাদনের জন্য ছয় মাস সময় ছিল। গত ১২ আগস্ট কাজের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে। খুঁটিগুলো না সরানোর কারণে আরও দুই মাস সময় বাড়ানো হয়েছে।
ডিপিডিসির কাজলা জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমানের ভাষ্য, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ শিমরাইল থেকে খুঁটি সরানোর জন্য চিঠি দিয়েছে। ইউটার্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে খুঁটিগুলো সরানোর জন্য ডিপিডিসির প্রকল্প বিভাগকে জানানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আহসান উল্ল্যাহ মজুমদার বলেন, ‘আমরা মার্চ, জুন ও জুলাই মাসে পর পর তিনটি চিঠি দিয়েছি ডিপিডিসিকে খুঁটিগুলো সরানোর জন্য, তারা সাড়ে ১০ লাখ টাকা বাজেট চেয়েছেন। তবে ওই টাকা দিতে পারিনি।’ তিনি বলেন, এখনও অনুমোদন না হওয়ায় টাকা দিতে পারেননি। দ্রুত বাজেট দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আহসান উল্ল্যাহ মজুমদার আরও বলেন, ‘বিদ্যুতের খুঁটি আমাদের জায়গার ওপর বসানোর সময় নিষেধ করা হয়েছিল। তখন তারা বলেছিল, সওজের প্রয়োজনে খুঁটি সরিয়ে নেওয়া হবে। অথচ এখন ডিপিডিসিকে টাকা দিয়ে খুঁটি সরাতে হচ্ছে।’

১৩ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে ইউটার্ন নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই এক হাজার ২০০ মিটার, সার্ভিস লেন, দনিয়া ময়লার ভাগাড় সরিয়ে সৌন্দর্যবর্ধন, ফুটপাত নির্মাণ, দেড় কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদার হাশমত আলী। তিনি বলেন, ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরানো হলে ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হবে এবং যানবাহন চলাচলের জন্য ইউটার্ন খুলে দেওয়া যাবে।

আরও পড়ুন

×