সংসদীয় আসন পুনর্বহাল দাবি
বাগেরহাটে নির্বাচন কার্যালয় ঘেরাও স্থগিত, নতুন কর্মসূচি
ফরিদপুর-৪ থেকে ভাঙ্গাকে আলাদা করতে হাইকোর্টের রুল
.
সমকাল প্রতিবেদক ও বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩১ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১২:০৬
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে– আজ মঙ্গলবার সারাদিন গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিন আগের কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন।
গতকাল জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির কো-কনভেনর এম এ সালাম। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন থামাইনি। শুধু পদ্ধতি পরিবর্তন করেছি। মঙ্গলবার গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হবে। এটা চলতেই থাকবে। তবে আজ সেই সঙ্গে বুধ ও বৃহস্পতিবার আবারও নির্বাচন অফিস ঘেরাও করা হবে।’
এ সময় সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব শেখ মোহাম্মাদ ইউনুস, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর রহমান আলমসহ কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত জুলাই মাসে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে জেলায় তিনটি আসন করার প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর পর থেকেই বাগেরহাটবাসী আন্দোলন শুরু করে। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন নেতাকর্মীরা। ৪ সেপ্টেম্বর শুধু সীমানা পরিবর্তন করে তিনটি আসন জারি রেখে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
হাইকোর্টের রুল
আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফরিদপুর-৪ আসন (ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর) থেকে ভাঙ্গা উপজেলাকে আলাদা করে ফরিদপুর-৫ আসন কেন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ গতকাল এই রুল জারি করেন। ১০ দিনের মধ্যে আইন সচিব, নির্বাচন কমিশন, ফরিদপুর জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব।
ফরিদপুর-৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ফরিদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের সভাপতি শাহ আলম রেজা, ব্যবসায়ী এম এম শহিদুল ইসলাম শাহীন, আইনজীবী এম ফাহাদ খান, চরভদ্রাসন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাজাহান শিকদারসহ সদরপুর ও চরভদ্রাসনের ১৬ বাসিন্দা যৌথভাবে এই রিট করেন।
রিটের পর আইনজীবী পল্লব সমকালকে বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন দুটি সংসদীয় আসনকে (ফরিদপুর-৪ ও ফরিদপুর-৫) একত্র করে তিনটি উপজেলার সমন্বয়ে একটি আসন (ফরিদপুর-৪) করা হয়েছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনী আইনে বলা ছিল, ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক সুবিধা-অসুবিধা ও জনসংখ্যার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু ওইটাই ছিল অবৈধ। তবে রিট আবেদনকারীদের কয়েকজন আগের মতো ফরিদপুর-৪ ও ৫ দুটি স্বতন্ত্র সংসদীয় আসন পুনর্বহালের জন্য আবেদন করলে নির্বাচন কমিশন তা নামঞ্জুর করে।
