পোকার সঙ্গে পাতা মোড়ানো রোগ, দিশেহারা আমন চাষি
খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়ার খোকসায় আমন ধানে পোকার আক্রমণের পর পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। ধান ক্ষেতে বারবার কীটনাশক স্প্রে করেও ফসল রক্ষা করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। কৃষকের অভিযোগ, তাদের বিপদের মুহূর্তে পাশে পাচ্ছেন না কৃষি কর্মকর্তাদের।
কৃষকদের ভাষ্য, চলতি আমন আবাদ মৌসুমে খোকসা পৌর এলাকা, শিমুলিয়া, জানিপুর ও বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। সবেমাত্র থোড় থেকে ধানের ফুল বের হয়েছে। এ পর্যন্ত তিন-চারবার কীটনাশক স্প্রে করেছেন প্রত্যেক কৃষক। কিন্তু পোকার আক্রমণ যাচ্ছে না। এখন আবার দেখা দিয়েছে পাতা মোড়ানো রোগ। অনেক কৃষকের জমির সব ধান নষ্ট করে দিচ্ছে এই পোকা। ধানের ফুল বের হলেই এই পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। দলগতভাবে আক্রমণ করে এই পোকা। ফসল কাটা পর্যন্ত এরা ধান গাছের সঙ্গে আটকে থাকে।
উপজেলার মালিগ্রাম মধ্যপাড়ার কৃষক আব্দুস ছাত্তার খান। নিজের ৯ বিঘা জমিতে ধানি গোল্ড, ১৭ ও ৭০০৬ প্রজাতের আমন ধান আবাদ করেছেন। তাঁর বেশির ভাগ জমিতের ধান পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি কোনো কোনো জমিতে তিনবার কীটনাশক স্প্রে করেছেন। এর পরও জমির ফসল রক্ষা করতে পারেননি। কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ডাকলে মাঠে আসেন না। সন্ধ্যায় তারা বাজারের সার-কীটনাশক ওষুধের দোকানে বসেন। কৃষকের কথা শুনে ওষুধ নির্বাচন করেন।
একই গ্রামের কৃষক রানা জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। তিনি প্রতিটি জমিতে চারবার কীটনাশক স্প্রে করেছেন। এর পরও জমিতে পোকার আক্রমণ হয়েছে। কৃষি অফিসের ব্লক সুপারভাইজারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আগে কৃষি কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতাদের হুমকি-ধমকির ভয়ে মাঠে আসতেন। এখন তারা জমিদার হয়ে গেছেন। ডাকলেও আসেন না। নানা অজুহাত দেখান।’
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন হোসেন দাবি করেন, এ উপজেলায় পাতা মোড়ানো ও পোকার আক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করেনি। যেসব কৃষকের জমিতে পোকার আক্রমণ হয়েছে, তাদের ওষুধের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৭৩৯ হেক্টর জমি। কিন্তু আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, পোকার আক্রমণ হলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দ্রুত ভুক্তভোগী কৃষকের ক্ষেতে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
- বিষয় :
- ধানের চারা
