সাংবাদিক হায়াত হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন
ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, ২৪ ঘণ্টায়ও লাশ পৌঁছেনি বাগেরহাটে
ছবি: সমকাল
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:০৫ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:১৮
বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা এস এম হায়াত উদ্দিনের হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
আজ শনিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের আয়োজনে ক্লাবের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক তরফদার রবিউল ইসলাম, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক, সাংবাদিক এসএম রাজ, আহাদ উদ্দিন হায়দার, হেদায়েত হোসেন লিটন, ইয়ামিন আলী, এইচএম মইনুল ইসলাম, মোল্লা আব্দুর রব, এসএস শোহান, মিরনুজ্জামান, এসএস সাগর, কামরুজ্জামান শিমুল প্রমুখ।
ঘাতকদের গ্রেপ্তার দাবি করে বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে একজন সংবাদকর্মীকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তা নাহলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া দেওয়া হবে।
তারা অভিযোগ করেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু নিহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও লাশ এখনো বাগেরহাটে পৌঁছেনি।
এদিন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে একাত্বতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে যোগ দেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেন, খান মনিরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা, ফকির তারিকুল ইসলাম, শাহেদ আলী রবি, মাহবুবুর রহমান টুটুল প্রমুখ।
বিএনপি নেতারা বলেন, হায়াত উদ্দিন শুধু সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী একজন সৈনিক ছিলেন। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার হত্যাকারী যত শক্তিশালী হোক; তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের হাড়িখালি এলাকায় এসএম হায়াত উদ্দিনকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে একই এলাকার মো. ইসরাইল মোল্লা ও তার সহযোগিতারা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত হায়াত উদ্দিন শহরের হাড়িখালি এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে এবং দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি বাগেরহাট পৌর বিএনপির সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন। তবে পরাজিত হন। এর আগে হায়াত উদ্দিন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হায়াত উদ্দিনের স্ত্রী এবং দুটি কন্যাশিশু রয়েছে। ছোট মেয়ে মারজিয়া ও বড় মেয়ে হিয়া মনির এখনো বুঝতে পারছে না, তাদের বাবা আর কোনোদিন ফিরবেন না। স্ত্রী ফাতেমা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বামী হত্যার বিচার দাবি করছেন তিনি।
স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, শুধু সত্য কথা লেখার কারণেই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী বলেন, হাড়িখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন মোড়ে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন হায়াত উদ্দিন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে এসে চার–পাঁচ যুবক অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে হামলাকারী ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসা, ঠিকাদারি কাজের মান, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ছিলেন হায়াত উদ্দিন। কয়েক মাস আগেও তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
হায়াত উদ্দিনের মা হাসিনা বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে সন্ত্রাসীরা বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে মারধর করে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। তখন আমার ছেলে মামলা করেছিল। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আসলে বিচার দেওয়ার আমাদের কোনো জায়গা নেই। তাই আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি।
এদিকে হায়াতের মরদেহ শনিবার বিকেলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে হায়াত উদ্দিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে আইনিপ্রক্রিয়া শেষে তাকে বাড়িতে আনা হবে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তার মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আমরা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছি। তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের মরদেহ এখন পর্যন্ত বাগেরহাটে পৌঁছায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেয়নি। দাফন শেষে হয়ত, তারা এজাহার দিবেন। এজাহার দিলে মামলা দায়ের করা হবে।
অভিযুক্ত মো. ইসরাইল মোল্লা হাড়িখালি এলাকার মো. আব্দুস ছালাম মোল্লার ছেলে। তিনিও বিএনপির কর্মী। পাশাপাশি ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির বাগেরহাট জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
- বিষয় :
- সাংবাদিক খুন
- মানববন্ধন
