দুর্গাপূজা ঘিরে নৌকাবাইচ উৎসব গোপালগঞ্জে
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে গোপালগঞ্জে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের। মুকসুদপুরের জলিরপাড়ে সমকাল
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে গোপালগঞ্জবাসী মেতেছেন ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ উৎসবে। দুর্গাপূজা ঘিরে কয়েক দিন ধরে চলছে আবহমান বাংলার এ আয়োজন। স্থানীয়রা জানান, পূজা উপলক্ষে নৌকাবাইচের আয়োজন এ অঞ্চলের শত বছরের ঐতিহ্য। কার্তিক পূজার পরদিন পর্যন্ত চলবে এমন আয়োজন।
গতকাল শনিবার কোটালীপাড়ার পীড়ারবাড়ি, মুকসুদপুরের বেদগ্রাম ও পাটিকেলবাড়িতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার টুঙ্গিপাড়ার বর্ণি বাঁওড়, মুকসুদপুরের জলিরপাড়ে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়া দশমীর দিনে বৃহস্পতিবার নৌকাবাইচ হয় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড়ে মধুমতী বিলরুট চ্যানেলে ও কাশিয়ানীর বাথানডাঙ্গায় কুমার নদে। আজ রোববার মুকসুদপুরের বন্যাহাটি গ্রামে নৌকাবাইচ হবে। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে প্রতিটি স্থানে হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলা বসছে। দূরদূরান্ত থেকে লোকজন জড়ো হচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে। নদীর পারে বসছে গ্রামীণ মেলা।
কোটালীপাড়া উপজেলার পীড়ারবাড়ি গ্রামের জব্বার মিয়া বলেন, দশমীর বিকেলে নৌকাবাইচ থেকে শুধু আনন্দ পেতেই নৌকার মালিকরা নৌকা নিয়ে এখানে আসেন। নৌকাবাইচকে উপলক্ষ করে বাড়িতে আত্মীয়স্বজনও আসেন। সবাই মিলে আনন্দ উপভোগ করি। এটাই বড় প্রাপ্তি।
কোটালীপাড়ার কলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান বিজন বিশ্বাস বলেন, প্রায় দেড়শ বছর আগে যশোরের বিঘাপতির জমিদার খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে কোটালীপাড়ায় দুর্গাপূজার পর থেকে লক্ষ্মীপূজা পর্যন্ত মেলা ও নৌকাবাইচের প্রচলন করেছিলেন। তখন থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার দশমীর দিনের পর থেকে এখানে একের পর এক নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কোটালীপাড়া উপজেলার সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এ নৌকাবাইচ উপভোগ করেন।
কবি সাংবাদিক রবীন্দ্র নাথ অধিকারী বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার অধিকাংশ নৌকাবাইচ শতবর্ষের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। এখানকার নৌকাবাইচ খুবই আকর্ষণীয়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচগুলোকে নৌকাবাইচ উৎসব বলা হয়। এভাবে ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছে জেলাবাসী। বিশ্বকর্মা পূজার মধ্য দিয়ে এ জেলায় বাইচ উৎসব শুরু হয়। দুর্গোৎসবের দশমীর পর কমপক্ষে সাতটি স্থানে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ্মীপূজার পরদিন থেকে তিন দিনব্যাপী বৃহৎ বাইচ উৎসব হয় কোটালীপাড়া উপজেলার কালীগঞ্জে। কার্তিক পূজার পরদিন নৌকাবাইচের মধ্য দিয়ে জেলার বাইচ উৎসব সমাপ্ত হবে বলে জানান তিনি।
- বিষয় :
- নৌকা বাইচ
