পাখি শিকার বন্ধে মাইকিং, সাইনবোর্ড স্থাপনের সিদ্ধান্ত
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কলাকান্দ ইউনিয়নের কালাচানকান্দি গ্রামে পাখির ঝাঁক সমকাল
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:০৫
পাখি শিকার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে তিতাস উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ। রোববার কালাচানকান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেন সরকারের পুকুরপাড়ে পাখির আবাসস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া মমিন ও উপজেলা ডেপুটি রেঞ্জ অফিসার গিয়াস উদ্দিন। পাখি শিকার বন্ধে মাইকিং করা এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘যমে’ চিনেছে আবাস, পাখির রাজ্যে বিষাদ– এই শিরোনামে গতকাল শনিবার দৈনিক সমকালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে ওঠে এসেছে তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের কালাচানকান্দি গ্রামে পাখি শিকারের চিত্র। সংবাদটি নজরে এলে পাখি রক্ষায় উদ্যোগী হয় উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ।
পাখির আবাসস্থল সেই পুকুরের মালিক কালাচানকান্দি গ্রামের মৃত শাহাদাত হোসেন সরকারের ছেলে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার জন্মের পর থেকে দেখে আসছি পাখিগুলো। কিন্তু এলাকার কিছু লোভী মানুষ পাখির বাসা থেকে বাচ্চা নিয়ে বাজারে বিক্রি করে আসছিল আমরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে। সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও ও বন কর্মকর্তা এসেছিলেন। পাখি শিকার বন্ধে এলাকায় মাইকিং ও পুকুর পাড়ে সাইনবোর্ড লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
বন বিভাগের তিতাস উপজেলা ডেপুটি রেঞ্জ অফিসার গিয়াস উদ্দিন জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২ এর বিধান অনুসারে ইউএনওর নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদকে মাইকিং করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এলাকাটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া মমিন জানান, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাখি শিকার বন্ধে মাইকিং করতে ইউনিয়ন পরিষদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাখি নিধন বন্ধে সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’
- বিষয় :
- পাখি শিকারী
