বিয়ের উপহারে পদ্মার চরে জাগবে ‘সুন্দরবন’
উপহার হিসেবে পাওয়া গাছের চারা গ্রহণ করছেন কনে তথাপি আজাদ সংগৃহীত
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিয়েতে কত কিছুই উপহার পান বর-কনে। এসবের বেশির ভাগই কাজে লাগে সংসারে। তবে পরিবেশের কাজে লাগে– এমন উপহার পাওয়া বিরল। এমন বিরল উপহার পেয়েছেন রাজশাহীর তথাপি আজাদ। গত সপ্তাহে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর তিনি শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে পেয়েছেন সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির দেড় হাজার গাছ। এসব গাছ শুক্রবার প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে লালনশাহ মুক্তমঞ্চের নিচে পদ্মার চরে রোপণ করা হয়েছে।
তথাপি আজাদের বাড়ি রাজশাহীর সাগরপাড়ায়। তিনি সংবাদকর্মী ও কলেজ শিক্ষক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদের ছোট মেয়ে। তথাপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। ৩ অক্টোবর তাঁর বিয়ে হয়েছে হাসিবুল আলমের সঙ্গে। সেখানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পান রাজশাহীর মৌমাছি ও মধু পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা আকমাল মাহমুদ, চট্টগ্রামের মধু গবেষক সৈয়দ মঈনুল আনোয়ার ও চাঁপাই আমবাগানের উদ্যোক্তা প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন। এই তিনজনই অভিনব উপহারের উদ্যোগটি নেন।
মঈনুল আনোয়ার সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা গাছের বীজ থেকে কৃত্রিম উপায়ে চারা তৈরি করেন। এভাবে নিজ বাড়িতে ‘এক টুকরো সুন্দরবন’ নামে বাগানও করেছেন। তিনি বিয়েতে আসতে পারেননি। কুরিয়ারে তিনি গাছের চারা পাঠান আকমাল মাহমুদের ঠিকানায়। শুক্রবার সকালে সেগুলো পৌঁছায় রাজশাহীতে। এর মধ্যে ২০০টি সুন্দরী, ২০০টি কাঁকড়া, ১০০টি পশুর, এক হাজার খালিশা ও ২০টি বাইন গাছ।
সেদিন বিকেলে লালনশাহ মুক্তমঞ্চের নিচে পদ্মার চরে তথাপি আজাদের হাতে চারাগুলো তুলে দেন আকমাল মাহমুদ। একটি চারা রোপণ করে বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তথাপি। পরে আরেকটি চারা রোপণ করেন বোয়ালিয়ার এসিল্যান্ড আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, রাজশাহী গ্রিন সিটি হিসেবে পরিচিত। এখানে উন্নয়ন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ বজায় রেখে চালাতে গেলে বৃক্ষরোপণ জরুরি। তাই এই উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করছেন।
বিয়ের উপহার হিসেবে সুন্দরবনের গাছ পেয়ে আপ্লুত তথাপি আজাদ। তিনি বলেন, ‘বিয়েতে অনেক উপহার পেয়েছি। কিন্তু গাছ অন্য রকম উপহার। যেখানে গাছগুলো রোপণ হচ্ছে, সেগুলো বেঁচে ওই জায়গা এক খণ্ড সুন্দরবন হয়ে উঠবে। গাছগুলো বেড়ে উঠলে বলতে পারব, এটা আমার বিয়ের স্মৃতি।’
সেখানে উপস্থিত ছিলেন তথাপির স্বামী হাসিবুল আলমও। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি খুবই ভালো লাগার। আশা করছি, গাছগুলো একদিন বড় হবে। অনেক পাখি ও প্রাণীর আবাসস্থল হবে।’
তথাপির বাবা আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ বলেন, ‘মেয়ের বিয়েতে এত গাছ পেয়ে আমি অভিভূত। একই সঙ্গে বিচলিত হয়ে পড়ি যে, এত গাছ লাগাব কোথায়। তখন জেলা প্রশাসনের কাছে যে খাসজমিতে বনায়ন হচ্ছে, সেখানে গাছগুলো রোপণের অনুমতি চাই। বোয়ালিয়ার এসিল্যান্ডকে জায়গা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি লালনশাহ মুক্তমঞ্চের নিচে পদ্মার চরে জমি নির্ধারণ করেন।’
চট্টগ্রামের আলওয়ান মধু জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মঈনুল আনোয়ার বলেন, ‘চিন্তা করেছি, সবাই তো উপহার দেবে। সেগুলো হয়তো ক্ষয় হয়ে যাবে, তাই এমন একটি উপহার দিই যেটা যুগ যুগ ধরে থাকবে। সেজন্য তথাপির বিয়েতে দেড় হাজার গাছের চারা উপহার দিয়েছি।’
- বিষয় :
- উপহার
