ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে খাল দখলের অভিযোগ

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে খাল দখলের অভিযোগ
×

নাটোরের সিংড়ায় বিএনপি নেতার কবল থেকে খাল দখলমুক্ত করতে মানববন্ধন। ছবি: সমকাল

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:৪৫

সিংড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে খাল দখলের অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। শনিবার বিকেলে ছাতারদিঘি ইউনিয়নের পাকিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ১০ গ্রামের শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। 

পাকিশা গ্রাম সভাপতি আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কৃষক সারওয়ার হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, শাহজাহান আলী, সিরাজুল ইসলাম, হাবীব মণ্ডল, সামছুল শাহ, জাহাঙ্গীর হোসেন আরাফাত খন্দকার টাইগার প্রমুখ।

বক্তারা জানান, পাকিশা গ্রামের পানাউল্লাহ ও নিয়ামত খালের মুখে অবৈধভাবে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল জলিল মাস্টার দুটি পুকুর খনন করেছেন। এতে ছাতারদিঘি ইউনিয়ন ও পাশের নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নসহ ২০ থেকে ২৫টি মাঠের শত শত হেক্টর কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার কৃষকের কয়েক কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে।  

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবদুল জলিল মাস্টার বলেন, পুকুর দুটি নিজের জায়গায় খনন করেছি। তদন্ত করে আমার পুকুর খালের জায়গা হলে যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, মেনে নেব।
এদিকে আত্রাই নদীর ভাঙন রোধে পদক্ষেপের দাবিতে রোববার সকালে কতুয়াবাড়ি-মহেশচন্দ্রপুর এলাকায় দিনমজুর ও মৎসজীবীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় কতুয়াবাড়ি এলাকায় নদী দখল করে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার সুযোগ সৃষ্টিরও দাবি জানানো হয়। 

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কতুয়াবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস, মৎস্যজীবী রিপন আলী, রেজাউল করিম, শাহাদত হোসেন, বাসুদেব সরকার।

বক্তারা বলেন, মৎসজীবী না হয়েও আত্রাই নদীর কতুয়াবাড়ি এলাকায় কোচাল জাল দিয়ে মাছ ধরছেন প্রভাবশালী বাখের আলী ও সিদ্দিক আলীর লোকজন। তাদের কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত জেলেরা। খেয়ে না খেয়ে তারা দিনাতিপাত করছেন। এ ছাড়া চারটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা পার ঘেঁষে সারাদিন চলছে। এতে ঢেউয়ের তোড়ে তীরসংলগ্ন অর্ধশতাধিক বাড়ি ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শ্যালো মেশিনের শব্দে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সাধারণ মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও কাজ হয়নি। তারা এ ব্যাপারে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। 

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত বাখের আলী ও সিদ্দিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়; কিন্তু সাড়া মেলেনি। 

ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মৎস্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আবার যেহেতু অভিযোগ এসেছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×