ঈশ্বরদীর কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র
দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও কাজ মাত্র ৫০ ভাগ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈশ্বরদীর কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে নির্মাণাধীন ভবন। কার্যাদেশ পাওয়ার এক বছরের মধ্যে ভবনটির কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার বারবার কাজের মেয়াদ ও নির্মাণ খরচ বাড়িয়েছেন। একই অজুহাতে ফের কাজ বন্ধ রেখেছেন। জানতে চাইলে বলছেন–‘ফান্ড ছাড় হয়নি, তাই রাগ করে কাজ বন্ধ রেখেছি।’
এদিকে ভবনটির কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে নির্মাণসামগ্রী। সেগুলোর ওপর ধুলো-বালি ও শ্যাওলা জমে গেছে। দেখে মনে হয় যেন এটি বহুদিনের পরিত্যক্ত স্থাপনা। সেখানে বসে মাদকসেবীরা আড্ডা দেয়।
জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এক কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের নতুন ভবনের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে। কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বার্ডস কনস্ট্রাকশন। এক বছরের মধ্যে ভবন হস্তান্তরের কথা। শুরুতে স্থানীয় সাব ঠিকাদারদের কাছ থেকে সামগ্রী নিয়ে আংশিক কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর একাধিকবার সময় বাড়ানো হলেও কাজ এগোয়নি। মাস ছয়েক আগে ভবনের ছাদ পর্যন্ত কাজ করার পর ঠিকাদারের লোকজন সাইট থেকে চলে গেছেন। ফলে রড, ইট, বালুসহ নির্মাণকাজের মালপত্র বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে পুড়ে নষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিন কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনের নিচতলায় চলছে অফিসের কার্যক্রম। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করে জানান, কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদার অনিয়ম করেছেন। ভবন তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী। এসব দেখে দরপত্র-সংক্রান্ত নথি চাইলে প্রকৌশল বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা দেখাতে রাজি হয়নি।
এ সময় কথা হয় প্রজনন কেন্দ্রের অফিস সহকারী আজহার আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে কাজ করতে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। সেই পুরোনো ভবনেই কাজ করতে হচ্ছে। কাজ শুরুর পর থেকে কতবার যে কাজ বন্ধ হয়েছে, তার হিসাব নেই। এখন নির্মাণাধীন ভবনের ভেতর মাদকসেবীদের নিয়মিত আড্ডা বসে।’
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আদনান ইসলাম জানান, এক বছরের কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। ভবনের বিভিন্ন অংশে পানি জমে শ্যাওলা পড়ে গেছে। রাত হলে মাদকসেবী ভিড় করে এখানে। এই অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।
একাধিক সূত্র জানায়, প্রভাব খাটিয়ে বার্ডস কনস্ট্রাকশন বিভিন্ন জেলায় ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়েছিল। একটি কাজও সময়মতো শেষ করতে পারেনি। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে বারবার কাজ স্থগিত করেছে।
অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বার্ডস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আবুল কাসেম সীমান্ত। তিনি বলেন, ফান্ড ছাড় হলেই কাজ শুরু করব।
জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন বছরেও ভবনের কাজ শেষ হয়নি। আমরা বাধ্য হয়ে পুরোনো ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি।’
বার্ডস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আবুল কাসেম সীমান্ত বলেন, ভবনের কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রশ্নই আসেন। আর দরপত্র-সংক্রান্ত নথি কেউ দেখতে চাইলে আমার অফিসে আসতে হবে। আমি নথি সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াই না।
এলডিডিপি প্রকল্পের পরিচালক ডা. জসিমউদ্দীন বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে আমরাও বিব্রত। সময় অনেক গড়িয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।’
- বিষয় :
- ভবন নির্মাণ
