ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সাত মামলায় আটক নেই, স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন

সাত মামলায় আটক নেই, স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন
×

 খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

খাগড়াছড়ি জেলাশহর এবং গুইমারা উপজেলা সদরে সহিংসতা নিয়ে দুই থানায় সাতটি মামলা হলেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি কেউ। ঘটনার ১৭ দিন পরও বিশেষ করে গুইমারার রামেসু বাজার এলাকায় জনজীবন স্বাভাবিক হয়নি।  তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। মামলা আতঙ্কে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।  

গত ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সহিংসতা-গুলিতে তিনজনের প্রাণহানি ঘটে। শতাধিক বসতবাড়িতে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। গুইমারায় সহিংসতায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় প্রথম মামলা করে। এতে তিন শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। অন্যদিকে খাগড়াছড়ি সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে প্রথম মামলায় সাতশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি  করা হয়। এসব মামলা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, এ ধরনের মামলার মাধ্যমে যে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে পুলিশের হয়রানির সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাই তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েই সামনে এগোতে হবে।

গুইমারা রামেসু বাজার এলাকার পাইম্রা মারমা জানান, পুলিশের মামলা আতঙ্কে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রশাসনের উচিত সাধারণ মানুষের অস্বস্তি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। চাইসালা মারমা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছে। কারণ, তাদের সামনেই সব ঘটনা ঘটেছে। তারা আন্তরিকভাবে চাইলে এই ভয়াবহ ঘটনা এড়ানো যেত।
জুম্ম ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তাদের মিডিয়া সেলের প্রচারিত এক বার্তায় বলা হয়, গুইমারার রামেসু এলাকায় ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর গুইমারা থানায় চারটি মামলা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাগড়াছড়ি সদর থানায় সহিংসতার এক সপ্তাহ পর তিনটি মামলা হলেও কাউকে আটকের খবর মেলেনি। ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, মামলাগুলো তদন্তাধীন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেলা সদরের সিঙ্গিনালায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার প্রতিবাদে ২৮ সেপ্টেম্বর  ‘জুম্ম ছাত্র জনতা’র ব্যানারে একটি সংগঠন প্রথমে অর্ধদিবস সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। অবরোধ চলাকালে দুপুরে গুইমারার রামেসু বাজার এলাকায় জুম্ম ছাত্র জনতা ও স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। সেখানে গুলিতে তিন মারমা তরুণের মৃত্যু ঘটে। বাজার ও আশপাশের শতাধিক বসতবাড়ি এবং দোকানপাটে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

আরও পড়ুন

×