সাঁথিয়ায় গ্রাহকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত জনতা ব্যাংক পিএলসির বনগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হেমায়েত করিম। ছবি: সংগৃহীত
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | ২১:২৩
পাবনার সাঁথিয়ায় গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে হেমায়েত করিম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত হেমায়েত জনতা ব্যাংক পিএলসির বনগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ও ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুসারে, তিনি গ্রাহকদের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত হেমায়েত করিমকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জেলহাজতে আছেন। এরআগে গত ১৬ অক্টোবর ব্যাংকটির বনগ্রাম শাখার নতুন ব্যবস্থাপক মো. ফরিদুজ্জামান আতাইকুলা থানায় হেমায়েত করিমকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ রোববার বনগ্রাম শাখায় ভিড় করেন গ্রাহকরা। এ সময় প্রায় শতাধিক গ্রাহক ব্যাংকে প্রবেশ করে নিজেদের একাউন্ট যাচাই করে জানতে পারেন- তাদের একাউন্টে জমাকৃত অর্থ নেই। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। অনেক গ্রাহক কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ব্যাংক ও গ্রাহক সূত্র জানিয়েছে, জনতা ব্যাংকের বনগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হেমায়েত করিম দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে গ্রাহকদের ৯ কোটি টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না করে আত্মসাৎ করেছেন। গত বুধবার বনগ্রামের ব্যবসায়ী উপজেলার সাগরদারী গ্রামের আব্দুস সালাম ব্যাপারী টাকা তুলতে গেলে দেখেন তার হিসাবে টাকা নেই। এ সময় ব্যাংকের হিসাবরক্ষকের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আব্দুস সালামের ডাক-চিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ী-গ্রাহকরা ব্যাংকে জড়ো হয় এবং নিজেদের হিসাব নম্বর চেক করে জানতে পারেন প্রায় গ্রাহকেরই জমা রাখা টাকার স্থিতি কম। বিষয়টি ব্যাংকের পাবনার জেলা কার্যালয়কে জানালে তারা এসে ঘটনার সত্যতা পান। এ নিয়ে রাতভর যাচাই-বাছাই করে অভিযুক্ত হেমায়েত করিমকে পুলিশ হেফাজতে দেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় গত ১৬ অক্টোবর নতুন ব্যবস্থাপক হিসেবে মো. ফরিদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই দিনই ব্যবস্থাপক ফরিদুজ্জামান বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় পূর্বের ব্যবস্থাপক হেমায়েত করিমের বিরুদ্ধে ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
তনয় সাহা নামে এক ভুক্তভোগী গ্রাহক জানান, তার সিসি লোনের ৪৯ লাখ টাকা হিসাব থেকে উধাও হয়েছে। টাকা হিসাব থেকে তুলে নেওয়ার আগে মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাগরদারি গ্রামের সালাম ব্যাপারী বলেন, আমি গরুর ব্যবসা করি। ব্যবসার সব টাকা জনতা ব্যাংক বনগ্রাম শাখায় রেখেছিলাম। গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে দেখি আমার হিসাব থেকে ৪১ লাখ টাকা নেই। টাকার শোকে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি।
গ্রাহকদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খালইভড়া গ্রামের শাপলা খাতুনের ১৬ লাখ টাকার জমা রশিদ দিলেও ওই টাকা হিসাব নম্বরে জমা হয়নি। ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুনসুর আলম পিন্টুর হিসাব থেকে ১০ লাখ টাকা উধাও হয়ে গেছে। এছাড়া বনগ্রামের আব্দুল মতিনের ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, রাজাপুর গ্রামের হযরত আলীর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বহলবাড়ীয়া গ্রামের আবু জাফরের ৫ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ হয়েছে।
বনগ্রাম জনতা ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত হেমায়েত করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গ্রাহকদের থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং বিভাগীয় তদন্ত চলছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনতা ব্যাংক পাবনা শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মঞ্জুরুল হক জানান, বিষয়টি বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং ঢাকা হেড অফিস থেকে কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে আসল ঘটনা জানা যাবে। অভিযুক্ত ম্যানেজার বর্তমানে জেলহাজতে আছেন।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আলমগীর হোসেন বলেন, জনতা ব্যাংক বনগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক মো. ফরিদুজ্জামানের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় বনগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হেমায়েত করিমকে গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে পাবনা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
- বিষয় :
- জনতা ব্যাংক
- অর্থ আত্মসাৎ
- সাঁথিয়া
