ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মাত্র চার চিকিৎসকে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মাত্র চার চিকিৎসকে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
×

বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। বিশেষ করে চিকিৎসকের তীব্র সংকট থাকায় অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফিরে যাচ্ছেন। 

জানা গেছে, ২০১৬ সালে ৫০ শয্যা হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র চারজন কর্মরত আছেন। এর মধ্যে একজন চিকিৎসককে সবসময় প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। বাকি তিনজনে চলছে উপজেলার তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা। বছরের পর বছর ধরে জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, কার্ডিওলজিস্ট, অর্থোপেডিক, শিশু  বিশেষজ্ঞ, সার্জারি, নাক-কান ও গলা, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞসহ ১৮ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া  দুই প্যাথোলজিস্টের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন একজন।  জনবল সংকটের পাশাপাশি মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও ওষুধের সংকট রয়েছে। এতে বিশেষ করে উপজেলার দরিদ্র রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র ও একাধিক রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে ইকোকার্ডিওগ্রাম মেশিন নেই। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ছাড়া অন্য রোগীদের আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয় না। প্যাথোলজিস্টের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় না। এতে হাসপাতারের বাইরে থেকে উচ্চ মূল্য দিয়ে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। ওয়ার্ডগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নোংরা। এ হাসপাতালে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী সেবা নিতে আসেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগী চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ব্যয়বহুল প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হন। 
গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলেন উপজেলার নোয়াহাটা গ্রামের গৃহবধূ তাসলিমা। তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। চিকিৎসক দেখাতে পারলেও ওষুধ পাননি। তিনি জানান, চিকিৎসক তাঁকে বলেছেন হাসপাতালে এখন ওষুধ নেই। ক’দিন পর এলে ওষুধ পাওয়া যেতে পারে। 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নাজমুল সালেহীন বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজনীয় জনবল নেই। বিশেষ করে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।  
সিভিল সার্জন অভিজিত শর্ম্মা বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই চিকিৎসক সংকটের সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী। 

আরও পড়ুন

×