ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায়

লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায়
×

 বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর 

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৫ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৫ | ১১:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট বন্ধ হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি থেমে যাওয়ায় বিভাগের ১৬ জেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের আট জেলায় ব্যাপক লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কলকারখানা ও দোকানপাট। সেই সঙ্গে কৃষির ওপরও পড়েছে ব্যাপক প্রভাব। এই অবস্থা চলতে থাকলে শিল্প উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং একটি ইউনিট পাঁচ বছর ধরে বন্ধ থাকার বিষয়টি দুঃখজনক।  

কারিগরি ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। ১৬ অক্টোবর সকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে শুধু ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছিল। সর্বশেষ গত রোববার রাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটের বয়লারে টিউব লিক করে। ফলে ওই ইউনিটটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুতই কেন্দ্রের ইউনিটগুলো চালু করা না হলে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট আরও বাড়বে। তবে নষ্ট হওয়া ইউনিটগুলো কবে পুরোপুরি চালু হবে, তার সময়ক্ষণ বা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। 

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার তেঁতুলিয়া এলাকার চাল ও চিড়া তৈরি মিলের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, আমার মিলে ১৬ জন শ্রমিক কাজ করেন। বিদ্যুৎ না থাকলে কাজ বন্ধ। ঘরে প্রচণ্ড গরমে কাজ করতে পারেন না শ্রমিকরা। অথচ তাদের হাজিরা ঠিকই দিতে হচ্ছে। আবার লোডশেডিং আর ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে কারখানার যন্ত্রগুলোও নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 
চিরিরবন্দর বটতলী এলাকার ওয়েলডিং কারখানার কর্মী আখতারুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিং বাড়লে আমাদের কাজ বন্ধ থাকে। ফলে আমাদের যে উপার্জন, তাতে করে ভাটা পড়ে। 

সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের বোলতৈড় এলাকার কৃষক সেলিম রেজা বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং দেখা দেওয়ায় সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। সামনে বোরো মৌসুম। যদি লোডশেডিং এভাবে থাকে, তাহলে আমাদের উৎপাদন খরচ বাড়বে। অন্তত কৃষকদের কথা মাথায় রেখে এই এলাকার লোডশেডিংয়ের বিষয়টি নিয়ে যাতে ভাবা হয়। 

দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন বলেন, বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রের একটি ইউনিট পাঁচ বছর ধরে বন্ধ। আরও দুটি ইউনিট বারবার বন্ধ হচ্ছে, এটি খুবই দুঃখজনক। ইতোমধ্যেই ধান ওঠা শুরু হয়েছে। ১৫-২০ দিন পর ধান পুরোপুরিভাবে চালকলগুলোতে যাবে। তখন এভাবে লোডশেডিং হলে মিলগুলোতে চাল উৎপাদন হবে না। আবার ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বোরো ধান রোপণ কার্যক্রম। তখন কৃষক বিদ্যুতের জন্য সেচের পানি না পেলে ফসলের ক্ষতি হবে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিট চালু করা এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ইউনিটের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। পাশাপাশি অন্য ছোট-বড় কলকারখানার উৎপাদনেও যাতে লোডশেডিংয়ের প্রভাব না পড়ে, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া। 

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) রংপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, রংপুর অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ১০০০ থেকে ১০৫০ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০-৯০০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিডে যদি অন্য জায়গা থেকে বিদ্যুৎ আনা যায়, তাহলে কম লোডশেডিং হবে। 

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ইউনিটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে এবং হবে। এই এলাকায় জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়।

আরও পড়ুন

×