অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে যুবককে নির্যাতন, মাথা ন্যাড়া
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:০২ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে গণপিটুনির ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এক যুবককে নির্যাতন করে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার ৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। এ সময় ওই নারীকে তাঁর শিশুসন্তানের সামনে হেনস্তা করা হয়েছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরদিন থেকে নির্যাতনের ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। নির্যাতনের শিকার মনছুর মিয়া পেশায় কাঠমিস্ত্রি এবং ওই ইউনিয়নের কটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, লুঙ্গি পরা এক যুবককে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। কয়েকজন মিলে তাঁকে খাটের ওপর ফেলে কিল, ঘুসি ও লাথি মারছেন। তাঁর পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পাশে এক নারী ও তাঁর ৫ বছরের শিশুসন্তান চিৎকার করছে। এ সময় শিশুটি তাঁর মায়ের পিছু পিছু যায় এবং তার মাকে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করে। নির্যাতনের শিকার যুবক বারবার বাঁচার আকুতি করেও রক্ষা পায়নি। এক পর্যায়ে ওই যুবককে অর্ধনগ্ন অবস্থায় টানাহেঁচড়া করে ঘর থেকে বের করে গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটাতে দেখা যায়। এরপর ওই যুবকের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।
মনছুর মিয়া সাংবাদিকদের জানান, প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে কাঠের কাজ করতে গিয়ে তাঁর পরিচয় হয়। গত বুধবার সন্ধ্যায় কাজের বকেয়া টাকা আনতে গেলে উনকোট গ্রামের নাছির ও সজীবের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক তাঁকে আটক করে মিথ্যা অভিযোগে মারধর করে। একপর্যায়ে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে দেয়। পরে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেয়।
মনছুরের বাবা হাফেজ আহমেদ বলেন, তাঁর ছেলে কাজের বকেয়া টাকার জন্য ওই ঘরে গিয়েছিলেন। তাকে অন্যায়ভাবে আটক করে নির্যাতন করা হয়েছে। এই ঘটনার বিচার চান তিনি।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নজরে এসেছে। নির্যাতনের শিকার যুবক থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। তবে ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে ১৬ অক্টোবর রাতে শ্রীপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় যুবদল নেতা বিল্লাল হোসেনের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাঁকে বেঁধে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রীকেও মারধর করা হয়। পরদিন স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।
- বিষয় :
- অনৈতিক সম্পর্ক
- নির্যাতন
- কুমিল্লা
