বেলকুচিতে খুনের মামলায় নির্দোষ কলেজছাত্রকে রিমান্ডে নিয়ে হয়রানির অভিযোগ
ছবি- সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:২১ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ২১:৫৯
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানায় খুনের মামলায় সিয়াম হোসেন মোল্লা (২৩) নামে নির্দোষ এক কলেজছাত্রকে রিমান্ডে নিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সিয়াম সোহাগপুরের হাটে ছিল। ঘটনাস্থলে ছিল না। আসামির তালিকায়ও নাম নেই। এরপরও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে রোববার রিমান্ডে নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেলুয়াকান্দি গ্রামে মাদকসেবীদের হাতুড়িপেটায় গুরুতর আহত হন কলেজছাত্র আবু হুরাইরা মিজান (২২)। এর তিনদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে মারা যান। ওই গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে মিজান স্থানীয় একটি কলেজের ডিগ্রী পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, দেলুয়াকান্দি গ্রামে মাদক সেবনের সুযোগ থাকায় উশৃঙ্খল যুবকরা প্রায়ই যায়। গত ৫ অক্টোবর একদল মাদকসেবী সিগারেট ধরানোর জন্য মিজানের কাছে দেশলাই চান। না পেয়ে তাকে পেটায় মাদকসেবীরা। এরপর মিজান, তার বন্ধু ও স্থানীয়দের সহায়তায় মাদকসেবীদেরও তারা পেটায়। এর জেরে মাদকসেবীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মিজানকে একা পেয়ে গত ৮ অক্টোবর হাতুড়িপেটা করে। গুরুতর আহত হয়ে তিন দিন পর মারা যান মিজান। গত ১৪ অক্টোবর নিহতের বড় ভাই ওয়েজ কুরুনী বেলকুচি থানায় মামলা করেন। এতে ২০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর সিয়াম হোসেন মোল্লাকে (২৩) গ্রেপ্তার করে শনিবার কারাগারে পাঠায় পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আদালত পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, মামলার প্রকৃত আসামি বাদ দিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। মুকুন্দগাঁতীর বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, আমার ছেলে সিয়াম হোসেন বেলকুচি সরকারি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করে। এর পাশাপাশি সোহাগপুর হাটে খাজনা আদায়ের খণ্ডকালীন কাজ করে। গত ৮ অক্টোবর ছিল বুধবার, হাটের দিন। সে হাটে খাজনা আদায় করছিল। তাকে হত্যা মামলায় ১৩ নম্বর আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে ১৩ নম্বর আসামি হল সিয়াম আকন্দ। সে উত্তর চন্দগাঁতী গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
মামলার বাদী ওয়েজ কুরুনী বলেন, ঘটনাস্থলে না থাকলেও অপরাধ সংগঠিত করে যাওয়ার পথে সবাইকে দেখেছি। পরে স্থানীয় লোকজন ও মিজানের বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করে সিয়ামের অভিযুক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।
মামলার তদন্তকারী বেলকুচি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সায়মন সরকার বলেন, বাদী ভুল করেছিল। পরে সংশোধন করেছেন।
গ্রেপ্তারবাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, আসামি সিয়াম উত্তর চন্দগাঁতী গ্রামে নানাবাড়িতে থাকতেন। বাদী ভুল করে বাবার স্থলে নানার নাম-ঠিকানা লেখেন। পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। তবে, সিয়াম এ হত্যকাণ্ডে জড়িত।
