১১ বছরেও শেষ হলো না বিচারকাজ
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই এলাকায় স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় রাতের আঁধারে ঘরে পেট্রোল ঢেলে মা ও তিন মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। আলোচিত এই ঘটনার ১১ বছর পার হলেও শেষ হয়নি বিচারকাজ। বিচারকাজ কবে শেষ হবে, তার কিছুই জানেন না মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী পরিবার। অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি ছাড়া বাকি সবাই জামিনে বেরিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর ঈদুল আজহার রাতে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই সোহাগপাড়া গ্রামে নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে ঘুমন্ত মা হাসনা বেগম এবং তাঁর তিন মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী মনিরা (১৪), বাকপ্রতিবন্ধী মীম (১১) ও নার্সারির ছাত্রী মলিকে (৭) পুড়িয়ে হত্যা করে একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগীরা। ঘাতক জাহাঙ্গীর ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এক রিকশাওয়ালাকে দিয়ে স্থানীয় মাছরাঙা ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৩০ লিটার পেট্রোল কিনে আনেন।
জাহাঙ্গীর একই গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে। নিহত হাসনা বেগমের স্বামীর নাম মজিবর রহমান। ঘটনার সময় তিনি মালয়েশিয়ায় ছিলেন। স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিহতের খবর পেয়ে পরদিন দেশে ফিরে আসেন তিনি।
মামলাটির বর্তমান তত্ত্বাবধানকারী হাসনা বেগমের বাবা আলাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনার পর মির্জাপুর থানায় মামলা হয়। মামলার বাদী ছিল আমার ছেলে (নিহত হাসনার ছোট ভাই) মোফাজ্জল হোসেন। তিনি তিন বছর আগে চাকরি নিয়ে বিদেশে চলে যান। এরপর বাদী পরিবর্তন করে তিনি নিজে মামলাটির তত্ত্বাবধানকারী হন।
আলাল উদ্দিন বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার তৎকালীন এসআই শ্যামল কুমার দত্ত প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগী নুর মোহাম্মদ নিপু এবং পেট্রোলপাম্পের ম্যানেজারসহ চার কর্মচারীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন। বাদীর নারাজিতে পরে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তরিত হয়। সিআইডির প্রতিবেদনেও বাদী নারাজি দিলে আদালত চার্জ গঠন করে জাহাঙ্গীরের
আরেক সহযোগী হারুন অর রশিদ রাজীবের নাম যুক্ত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু রাজীব উচ্চ আদালতে গেলে চার্জ গঠনের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ আসে। ফলে আলোচিত মামলাটি বিচারিক আদালতে থেমে যায়। পরে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে বর্তমানে বিচারিক কাজ চলছে টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জজ আদালত ১-এ। এ মামলায় আসামি আটজন।
আলাল উদ্দিন জানান, মামলার বেশ কিছু সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে এবং বাকিদের সাক্ষ্যগ্রহণ সামনে হবে। শুধু তারিখ পড়ছে। ২৯ অক্টোবরও তারিখ আছে বলে তিনি জানান। তবে এই মামলার বিচার কবে শেষ হবে তার কিছুই তিনি জানেন না।
নিহত হাসনা বেগমের স্বামী ও নিহত তিন মেয়ের বাবা মজিবর রহমান বলেন, একজন বাদে সব আসামি বাইরে ঘুরছে। বিচার কবে শেষ হবে কিছুই তো বুঝতে পারছি না। আমার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মারল, তার বিচার এত দিনেও হয় না কেন, আক্ষেপের সুরে প্রশ্ন করেন তিনি।
মামলার আইনজীবী টাঙ্গাইল জজকোর্টের অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট মো. সাইদুর রহমান স্বপন বলেন, মা ও তিন মেয়েকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনাটি একটি আলোচিত মামলা। মামলায় কয়েকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। তবে কিছু সাক্ষ্যগ্রহণ এখনও বাকি আছে।
- বিষয় :
- বিচারের দাবি
