পদ্মার চরে জোড়া খুনের ঘটনায় মামলা হয়নি, সীমানা নির্ধারণে দিন শেষ
গুলি খোসা উদ্ধার
সোমবার বেলা ১১টায় সীমান্তের ১৪ হাজার মাঠ এলাকায় জমি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালায় কাঁকন বাহিনীর লোকজন। ছবি: সমকাল
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | ২৩:৫৬
রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকার পদ্মার চরে সোমবার বিকেলে প্রতিপক্ষের গুলিতে জোড়া খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ১১টা পর্যন্ত মামলা হয়নি। কোন থানা এলাকার ঘটনা তা নির্ধারণ করতেই দিন কেটে গেছে। তবে পুলিশ গোলাগুলির ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর পরিমাণে গুলির খোসা ও কয়েকটি তাজাগুলি উদ্ধার করেছে।
ঘটনাস্থল সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে মঙ্গলবার রাজশাহীর পুলিশ সুপার ও ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। গুগল ম্যাপের মাধ্যমে তারা জায়গা চিহ্নিত করেছেন। খুব সামান্য ব্যবধানে পদ্মা নদীর চরের এই জায়গাটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার মরিচা ইউনিয়নে পড়েছে। ঘটনাস্থল শনাক্ত করতে বিলম্বের কারণে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত দুই খুনের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
গত সোমবার বিকেলে পদ্মার চরে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে গুলিতে দুইজন মারা যান। গুলিবিদ্ধ আরো দুইজন গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিন দুপুরে বাঘা উপজেলার নিচ খানপুর গ্রামের এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে ফিরে বলেন, কুষ্টিয়ার ‘কাকন বাহিনী’র লোকজন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এরা চরের বালুর সিন্ডিকেট চালায়। বাঘার সীমানা পার হয়ে লালপুর এলাকা ছেড়ে ঘটনাস্থলে যেতে হয়। যারা নিহত হয়েছেন তারা দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। নদী ভাঙনের কারণে বাঘার ভেতরে এসে অস্থায়ীভাবে বাস ছিল তাদের। তারা খড় কাটতে গেলে এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহত দুই ব্যক্তি হলেন আমান মন্ডল (৩৬)। তার বাবার নাম মিনহাজ মন্ডল। নিহত অপর ব্যক্তি হচ্ছেন নাজমুল মন্ডল (২৬)। তার বাবার নাম শুকুর মন্ডল। তারা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাসিন্দা বলেই সোমবার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।
মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান শেখ বলেন, যারা নিহত এবং আহত হয়েছেন তাদের এনআইডি কার্ড যাচাই করে দেখা যাচ্ছে তারা আসলে দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের বাসিন্দা। নদী ভাঙনের কারণে তারা বাঘার ভেতরে এখন অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। আর ঘটনাস্থলটাও দৌলতপুরের মধ্যেই পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘হিসাব নিকাশ করে রাজশাহীর এসপি ঘোষণা দেন মামলাটি দৌলতপুর থানাতেই হবে। তাছাড়া মামলার মেরিট নষ্ট হয়ে যাবে।’
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় একশ গুলির খোসা উদ্ধার করা করা হয়েছে। সেখানে রক্ত ও রক্তমাখা হাসুয়া পাওয়া গেছে। তবে দৌলতপুর থানার ওসি দাবি, গুলির খোসা গোনা হয়নি। ৭০ থেকে ৮০ টা হতে পারে।
ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, জায়গা শনাক্ত করতে বিলম্ব হওয়ার কারণে মামলা কোন থানায় হবে তা ঠিক করতেও দেরি হয়েছে। এই দুর্গম চরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলা করতে নিহতদের পরিবারকে থানায় ডাকা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের গোপনীয় শাখার পরিদর্শক (ডিআইও-১) ওবায়দুর রহমান মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টায় সমকালকে জানান, এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি। তবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, নদীর ভেতরে দিয়ে ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছে। তারা গুগল ম্যাপের মাধ্যমে ঘটনাস্থল ঠিক করেছেন।
আহত ও নিহত ব্যক্তিরা এখন বাঘা উপজেলার নিচ খানপুর গ্রামে অস্থায়ীভাবে বাস করছেন। সোমবার গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিকেল সাড়ে চারটারদিকে আমান মন্ডলকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর নাজমুল মন্ডলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত পৌনে আটটার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র চিকিৎসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, আহত মুনতাজ মন্ডল (৩২) ও বারিক হোসেন (১৮) হাসপাতালের চার নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা দুজনেই গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত।
