নান্দাইলে ‘হাইত’ উৎসবে মাছ শিকারির ঢল
নান্দাইলের বলদা’র বিলে কেউ খালি হাতে, কেউ আবার জাল ফেলে মাছ ধরছেন। ছবি: সমকাল
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:১৯ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | ২০:০৭
নান্দাইল উপজেলায় খাল-বিলের পানি কমতে না কমতেই শুরু হয়ে গেছে ‘হাইত’ উৎসব। বৃহস্পতিবার বলদা’র বিলে মাছ ধরার এই উৎসব হয়েছে। স্থানীয়সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা শৌখিন মৎস্য শিকারীদের বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে হাইতে অংশ নিতে দেখা গেছে। প্রতিবছরে মতো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলার অন্যান্য বিলেও পর্যায়ক্রমে এই উৎসব হবে।
কার্তিক মাসে মাইকে ঘোষণা দিয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিলে দল বেঁধে মাছ ধরাকে স্থানীয় ভাষায় ‘হাইত’ বলা হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, বিলপাড়ের লোকজন একত্রে বসে কোন বিলে কোন দিন হাইত হবে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। পরে বিভিন্ন হাট-বাজারে মাইকিং করে বা ঢোল পিটিয়ে উৎসবের তারিখ লোকজনকে জানিয়ে দেওয়া হয়। লোকজনকে হাইতে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়।
প্রচার শুনে দূর-দুরান্তের মৎস্য শিকারীরা বিভিন্ন যানবাহনে করে মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে বিলের দিকে রওনা হন। অনেকেই শুকনা খাবার নিয়ে হাইত উৎসবের আগের দিন বিল পাড়ে এসে অবস্থান নেন। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই সমস্বরে চিৎকার করতে করেতে মাছ ধরার জন্য বিলে নেমে পড়েন। মাত্র দুই ঘণ্টা সময় চলে মাছ শিকার। অনেকেই একাধিক মাছ শিকার করতে পারেন, আবার কেউ কেউ ধরতে পারেন না। কিন্তু যারা ধরতে পারেন না তাদের মধ্যেও আনন্দের কমতি থাকে না।
বৃহস্পতিবারও বলদা বিলেও হাজারো শৌখিন মৎস্য শিকারী বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে হাইত উৎসবে মেতে ওঠেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান জানান, বহু বছর আগে থেকে হেমন্তকালে খাল-বিলে ‘হাইত উৎসব’ হয়ে আসছে। গ্রামের লোকজন এখনো হাইতের আয়োজন করেন। বৃষ্টিবিহীন এই সময়টিতে খাল-বিলের পানি কমতে থাকে, আর তখনই হাইতের আয়োজন করা হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজারো মানুষ টাক জাল, ঠেলাজালি ও পলো নিয়ে বিলে মাছ ধরতে নেমে পড়েন। শিশু-কিশোরদেরও এই উৎসবে অংশ নিতে দেখা যায়।
বলদা বিলপাড়ের বাসিন্দারা জালাল উদ্দিনের ভাষ্য, অনেক জায়গায় জমির মালিকরা বিলে মৎস্য খামার করছেন। এতে বিলের পরিধি ছোট হয়ে যাওয়ায় হাইত হচ্ছে না।
দাতারাটিয়া গ্রামের মৎস্য শিকারী শফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন তিনি, বাড়িতে এসেই হাইতের খবর পেয়ে মাছ শিকারে চলে এসেছেন। কেমন মাছ পেলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাছ পেলাম কি পেলাম না সেটা বড় কথা নয়, একত্রে মাছ ধরার আনন্দটাই আসল।’
নান্দাইল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনিন জানান, জলাশয়গুলো প্রাকৃতিকভাবেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে পানির আগের সেই প্রবাহ না থাকায় অন্য জলাশয় থেকে বিভিন্নজাতের মাছ বিলে আসতে পারছে না। তাছাড়া জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বিলে আগের মতো মাছ না পাওয়া গেলেও এই উৎসব চলতে থাকবে।
