শিশুকে হত্যার অভিযোগে বাবা ও সৎমা গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫ | ০২:২১
আড়াইহাজারে সাব্বির আহম্মেদ সাফওয়ান নামে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা ও সৎমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন– নিহত সাফওয়ানের বাবা রাকিবুল ইসলাম রোকন ও সৎমা হামিদা আক্তার।
পুলিশ জানায়, তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রী শিউলি আক্তারকে তালাক দিয়ে বগাদী গ্রামের আব্দুল হালিমের মেয়ে হামিদা আক্তারকে বিয়ে করেন মারুয়াদী এলাকার রাকিবুল ইসলাম রোকন। সাব্বির আহম্মেদ সাফওয়ান আগের সংসারের সন্তান।
রাকিবুল ইসলাম রোকন ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি কোম্পানির গাড়িচালক পদে কর্মরত ছিলেন। দ্বিতীয় স্ত্রী হামিদা আক্তার ও ছেলে সাব্বির আহম্মেদ সাফওয়ানকে নিয়ে ওই উপজেলার রায়মনি গ্রামের সেলিম মিয়ার বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। গত বুধবার সাফওয়ান অসুস্থ হয়ে মারা গেছে– এ কথা জানিয়ে লাশ নিয়ে মারুয়াদী এলাকায় দাফন করতে যান তারা। লাশের গোসল করানোর সময় সাফওয়ানের গায়ে জখমের চিহ্ন দেখে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান হামিদা আক্তার। পরে রাকিবুলকে আটক করে পুলিশে খবর দেন এলাকাবাসী। পুলিশ ওই দিন সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ মর্গে পাঠায়। রাকিবুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামিদা আক্তারকে শুক্রবার ভোরে ফতেপুর ইউনিয়নের বগাদী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত সাফওয়ানের মা শিউলি আক্তার অভিযোগ করেন, সাফওয়ানকে তার সৎমা হামিদা আক্তার সন্তান হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। প্রায়ই তার গায়ে হাত তুলত। তার কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে দুর্ব্যবহার করতেন রাকিবুল। এমনকি সন্তানকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতেও দিতেন না। সাফওয়ানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
সাফওয়ানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হামিদা আক্তার। তাঁর ভাষ্য, সাফওয়ান দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল। গত বুধবার সকালে বাড়ির বাইরে থেকে এসে দেখেন, মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়।
আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাঈফ উদ্দিন জানান, মা শিউলি আক্তারের অভিযোগের ভিত্তিতে সাফওয়ানের বাবা ও সৎমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি ময়মনসিংহের ত্রিশালের, তাই ত্রিশাল থানায় হত্যা মামলা করবেন শিশুটির মা।
- বিষয় :
- শিশু
- হত্যার অভিযোগ
- নারায়ণগঞ্জ
