নবীনগরে গোলাগুলিতে আহত আরেকজনের মৃত্যু, মামলা হয়নি
নবীনগর থানা। ফাইল ছবি
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৫ | ২০:২৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামে গত শনিবার রাতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে আহত আরেকজন মারা গেছেন। সোমবার সকালে ইয়াছিন মিয়া (২২) নামে ওই ব্যক্তি ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।
এর আগে শনিবার রাতে একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ নূরজাহানপুর গ্রামের মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া (৩০) মারা যান। এ ছাড়া নূর আলম ও এমরান মাস্টার নামে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
নিহত ইয়াছিন নবীনগর পৌর এলাকার আলমনগর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি বড়িকান্দি গণিশাহ বাজারের স্থানীয় একটি খাবার হোটেলের কর্মচারী। শনিবার রাতে নূরজাহানপুর গ্রামের মনেক ডাকাতের গ্রুপ ও থোল্লাকান্দি গ্রামের আরাফাত গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়রা জানান, নূরজাহানপুর গ্রামের মনেক ডাকাতের গ্রুপ ও থোল্লাকান্দি গ্রামের এমরান আরাফাত গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার রাতে বড়িকান্দি গণিশাহ বাজারের স্থানীয় একটি খাবার হোটেলে আড্ডা দিচ্ছিলেন মনেকের ছেলে শিপন। এ সময় আচমকা প্রতিপক্ষ আরাফাত গ্রুপের লোকজন হোটেলটিতে গুলি করতে করতে হামলা চালায়। এতে শিপন মিয়া এবং হোটেলের দুই কর্মচারী ইয়াছিন ও নূর আলম গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। শিপন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর বাবা মনেকের নেতৃত্বে গণিশাহ মাজারের অদূরে তালতলায় গিয়ে আরাফাত মিয়ার চাচাতো ভাই এমরান মাস্টারের অফিসে হামলা চালায়। এ সময় মনেক গ্রুপের লোকজনের ছোড়া গুলিতে এমরান মাস্টার গুলিবিদ্ধ হন।
এদিকে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও কোনো মামলা বা কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ফলে এখনও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নবীনগর থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম জানান, নিহত শিপন মিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও মামলা হয়নি; তবে এর প্রস্তুতি চলছে।
