দুর্নীতি-অনিয়মের তদন্ত কতদূর
সিসিকের অ্যাসেসমেন্ট ও কর শাখা
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৯
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) অন্যতম আয়ের উৎস বিবেচনা করা হয় এর অ্যাসেসমেন্ট ও কর আদায় শাখা, যা মূলত নাগরিক সেবার বিপরীতে কর সংগ্রহ এবং হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে।
গুরুত্বপূর্ণ এ শাখায় দীর্ঘদিন কাজ করছেন এমন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আছেন, যারা পরস্পর আত্মীয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তারা পরিকল্পিতভাবে এই বিভাগে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন। এ চক্রই মূলত কর আদায় শাখা নিজেদের মতো পরিচালনা করছেন।
বর্তমানে করপোরেশনের ওই শাখায় অ্যাসেসমেন্টের কাজ বন্ধ। এর আগে বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। সে সময় অভিযোগ তদন্তে গঠন করা হয় কমিটি।
মাসের পর মাস গড়িয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় না। সর্বশেষ একটি অভিযোগের চার মাস পরও তদন্তে অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।
কমিটির সদস্যদের দাবি, তদন্ত কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু আরেক দফা তারা বসবেন সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা নানাভাবে তদবির করায় প্রতিবেদন দাখিল করছে না কমিটি।
সিসিকের হোল্ডিং ট্যাক্স বা গৃহকর থেকে প্রতি অর্থবছরে রাজস্ব শাখা বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ আয় করে থাকে। দেড় বছর আগে ২০০ গুণ পর্যন্ত কর বৃদ্ধি নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে সিলেটে। সেই উদ্যোগ স্থগিত করার পর স্থবিরতা দেখা দেয় শাখায়। ওই সময় ও পরে নতুন ভবন ও বর্ধিত এলাকার ভবন বা গৃহের অ্যাসেসমেন্ট ও কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এর মধ্যে অন্যতম অ্যাসেসমেন্ট শাখার প্রধান আব্দুল বাছিত।
এ ছাড়া অভিযুক্তের তালিকায় আছেন– অ্যাসেসর আকতার সিদ্দিকী বাবলু, কবির উদ্দিন চৌধুরী, সহকারী কর কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলমসহ কয়েকজন। ওই কর্মকর্তারা সম্পর্কে পরস্পর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর ভবনের এক কর্মকর্তা জানান, কর শাখাটি পরিবারতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। চক্র বানিয়ে পুরো শাখা নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। বর্তমানে কার্যক্রমে স্থবিরতা থাকায় তাদের ব্যাপারে তেমন কোনো আলোচনা নেই।
ভবনের একটি সূত্র জানায়, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাসেসমেন্ট ও কর নির্ধারণ এবং নির্ধারণের পর আবার ঘুষের বিনিময়ে কমিয়ে আনাসহ বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে। ২৫ জুন সিটি করপোরেশনের সচিব আশিক নূরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয় এসব অভিযোগ তদন্তে।
কমিটিতে রাখা হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিৎ দাস, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আকবর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানকে।
জানা গেছে, তদন্ত কমিটি অভিযোগ বিষয়ে বিভিন্ন ভবন মালিক ও প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়। তবে কেউ স্বেচ্ছায় অভিযোগ বা বক্তব্য দেননি। ফলে তদন্ত বিলম্বিত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিবেদন দাখিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নানাভাবে তদবির করছেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটিপ্রধান ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সচিব আশিক নূর দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া শাখার অনেক সদস্য কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে কমিটির অন্যতম সদস্য প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, তদন্ত শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে যেসব ভবন বা মালিকের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়া হয়েছে, তাদের বলা হয়েছে অভিযোগ করার জন্য। এ ব্যাপারে চিঠিও দেওয়া হয়েছে তাদের। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সব ভবন মালিকের বিস্তারিত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে কমিটি।
অভিযোগ বিষয়ে আব্দুল বাছিত জানান, যেসব অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, সেসবের কোনো ভিত্তি নেই। তদন্তেই তা প্রমাণ হবে।
- বিষয় :
- সিসিক
