ফরিদপুরের বোয়ালমারী
আসামি হয়ে বিস্মিত শাহ জাফর
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:৪২ | আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | ১২:৩১
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষের পর পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে তাদের মামলা নথিভুক্ত করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। একটি মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারশ জনকে আসামি করা হয়।
অপর মামলায় ১৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ২০০-২৫০ জনকে। একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরকেও আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও জনতা পার্টির ১ নম্বর উপদেষ্টা পদে থাকা এ নেতা।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বোয়ালমারী সদর। বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। ২০টি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় সেদিন। হামলা হয় একটি শপিং কমপ্লেক্সে।
মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। এখানে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুও মনোনয়নপ্রত্যাশী। গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও বিএনপি এ আসনে কারও নাম ঘোষণা করেনি।
২৩ অক্টোবর বোয়ালমারী উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠিত হয়। এসব কমিটিতে একচ্ছত্র আধিপত্য নাসিরুল ইসলামের সমর্থকদের। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। শুক্রবার এই বিরোধেই সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নবগঠিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। এতে প্রধান আসামি করা হয় শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুকে। এ ছাড়া শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরকে ২ নম্বর ও খারদিয়ার মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে (বাচ্চু) আসামি করে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামির সংখ্যা তিন-চারশ।
অপরদিকে শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর পক্ষে মজিবর রহমান বাবু বাদী হয়ে খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে ১ নম্বর আসামি করে অভিযোগ দেন। এতে ১৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। অভিযোগ দুটি আমলে নিয়ে শনিবার গভীর রাতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক মামলা নথিভুক্ত করে পুলিশ। থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই, তবে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু সমকালকে বলেন, ‘এ মামলার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা প্রশাসনকে বলে আমাদের অফিসের সামনে মিটিং করছিলাম। মিটিং শেষে নাসির মিয়ার লোকজন কামারগ্রাম থেকে ওয়াপদার মোড়ের দিকে আসছিল। আমাদের লোকজন দেখে ভয় পেয়ে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে, বোমা ফাটায় ও গুলি করে। দুই পক্ষের কোনো সংঘর্ষ হয়নি। তারাই সব করেছে। মাগুরার মহম্মদপুরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন ভাড়ায় এনে তারা এসব করেছে। শাহ মো. আবু জাফরের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে শাহ জাফরকে আসামি করেছে।’
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় মধুখালীতে মিটিং শেষ করে ১০-১৫ হাজার মানুষের মিছিলে ছিলাম। পুলিশ এবং ইউএনওর মাধ্যমে জানতে পারি, কিছু দুষ্কৃতকারী খারদিয়া থেকে এসে ওয়াপদার মোড়ে ঝামেলা করছে। এখানে ঝুনু মিয়ার লোকজন আগুন ধরিয়ে দেয়। খালেদা জিয়ার ছবি ভাঙচুর করে। আমার লোকজন প্রতিরোধ করলে তারা পালিয়ে কাজী হারুন শপিং কমপ্লেক্সে আত্মগোপন করে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ফিরে গেলে তাদের ফোনে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করতে বলি।’
শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর এই সংবাদে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি তো এখন বিএনপির কেউ না। তাদের গোলযোগের মধ্যেও নেই। হয়তো তারা আতংকিত হয়ে মামলায় নাম দিয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফোনে আমাকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। যেটা পত্রপত্রিকায় এসেছে। এটা দেখে হয়তো নাসির সাব আতংকে আছেন। তিনি হয়তো আমাকে ভয় দেখাতে আসামি করেছেন। আমি ওটা নিয়ে ভাবি না।’
