ফসলি মাঠ মাড়িয়ে ক্লিনিকে যাতায়াত
সরিষাবাড়ীর কামরাবাদ ই্উনিয়নের ধারাবর্ষা গ্রামে ফসলের মাঠে রাস্তাবিহীন কমিউনিটি ক্লিনিক সমকাল
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে কমিউনিটি ক্লিনিক। পাকা সড়ক থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ক্লিনিকটি। সেখানে যাতায়াতের সংযোগ সড়ক না থাকায় বেগ পেতে হয় সেবাপ্রত্যাশীদের। শুকনো মৌসুমে জমির আইল দিয়ে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে বন্ধ থাকে যাতায়াত। বন্যার সময় নৌকা বা ভেলা ছাড়া সেখানে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির অবস্থান সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের চর ধারাবর্ষা গ্রামে। ক্লিনিকে চলাচলের জন্য একটি রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কামরাবাদ ইউনিয়নের চর ধারাবর্ষা গ্রামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। স্থানীয় হাসমত আলী নামে এক ব্যক্তি ক্লিনিকটি স্থাপনের জন্য আট শতাংশ জমি দান করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ করা হয়। ২০১৫ সালের জুন মাসে সেবাদান শুরু হয়। যেখানে চিকিৎসাসেবা পেয়ে আসছেন চর ধারাবর্ষাসহ আশপাশের তিন-চারটি গ্রামের মানুষ। কিন্তু রাস্তা না থাকায় ফসলি ক্ষেতের আইল দিয়ে ক্লিনিকে যেতে হয় সেবাপ্রত্যাশীদের। বন্যার সময় ক্লিনিকে যেতে হয় নৌকা বা ভেলায় করে।
চিকিৎসা নিতে আসা কান্দারপাড়া গ্রামের ফজিলা বেগম, ধারাবর্ষা গ্রামের মমতাজ উদ্দিন, মজিবর মিয়া, ইসাহাক আলী ও সুরুজ মিয়া অভিযোগ করেন, ক্লিনিকটি এলাকাবাসীর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাসেবা সহজেই হাতের নাগালে পাওয়া যায়। তবে রাস্তা না থাকায় ক্লিনিকে যাতায়াতে কষ্ট হয়। ফসলি ক্ষেতের আইল দিয়ে যেতে হয়। অনেকে জমির মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কারণে ফসল নষ্ট হলে জমির মালিকদের কথা শুনতে হয়। আবার হাসপাতালে ওঠার জন্য অনেকগুলো উঁচু সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। অনেকেই বয়সের কারণে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে পারেন না।
ফুলমাহমুদ নামে একজন জানান, হাসপাতালে যাওয়ার সড়ক নেই। কোনো সরকারি লোক আসে না। হাসপাতাল বানাইছে, তাদের কাজ শেষ। সরকার সড়ক দেবে না, তাহলে হাসপাতাল বানাইছে কেন? দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল চালু হয়েছে। ক্ষেতের আইল দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। জমির ফসল নষ্ট হয়।
ক্লিনিকের পাশের ফসলি জমির মালিক মোক্কাদেছ আলীর স্ত্রী খোদেজা বেগমের ভাষ্য, জমি বলতে তিন ভাইয়ের ২৫ কাঠা সম্বল। জমির দুই পাশ দিয়ে মানুষ হাসপাতালে যাতায়াত করে। এতে অনেক ফসল নষ্ট হয়। হাসপাতালের রাস্তার জন্য কেউ আপনাদের কাছে জমি চেয়েছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, সড়কের জন্য কেউ জমি চাইতে আসে নাই।’
চর ধারাবর্ষা কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রোপ্রাইটর (সিএইচসিপি) আসমাউল হুসনা বলেন, সড়ক না থাকায় প্রতিদিন কষ্ট করে মানুষের আসা-যাওয়া করতে হয়। মানুষজনকে সড়ক থেকে নিচে নেমে ক্ষেতের আইল দিয়ে ক্লিনিকে আসতে হয়। প্রায়ই ক্লিনিকের সামনে থাকা জমিওয়ালাদের সঙ্গে রোগীদের চলাচল নিয়ে ঝগড়া হয়। এখানে একটি রাস্তা নির্মাণ করা জরুরি। তাঁর ভাষ্য, রাস্তা নির্মাণের জন্য এক টিএইচও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বদলি হওয়ায় আর সম্ভব হয়নি। ২২ থেকে ২৭ পদের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকেন তারা। এভাবে ১০ বছর ধরে চলছে রাস্তাবিহীন কমিউনিট ক্লিনিক।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, ক্লিনিকের জমিদাতা রাস্তা থেকে দূরে জমি দান করায় সেখানেই ক্লিনিকটি স্থাপন করা হয়েছিল। যার কারণে ক্লিনিকটিতে যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত একটি রাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
- বিষয় :
- কমিউনিটি ক্লিনিক
