ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরে দূরে যাত্রী ছাউনি, হকারদের আড্ডাস্থল

বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরে দূরে যাত্রী ছাউনি, হকারদের আড্ডাস্থল
×

নান্দাইল চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্রী ছাউনি দখল করে ভাসমান দোকান সমকাল

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:২৯ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

নান্দাইল উপজেলায় সাতটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলো বাসস্ট্যান্ড থেকে অনেকটা দূরে। ফলে হকারদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। সেগুলো বাসযাত্রীদের কোনো কাজে আসছে না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা স্থানীয় প্রশাসনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতেই স্থান নির্বাচন করেছেন।

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কটি নান্দাইল চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ড দিয়ে কিশোরগঞ্জ, ভৈরব হয়ে ঢাকা চলে গেছে। নেত্রকোনা-ঢাকা, তাড়াইল-ঢাকা, কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোনা সড়ক মিলিত হওয়ায় জায়গাটি চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ড বলে পরিচিত। এখান থেকে যে কোনো সময় বাসে করে সব জায়গায় চলাচল করা যায় বলে জায়গাটিতে প্রচুর যাত্রী সমাগম থাকে। উপজেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডেও যাত্রী ছাউনি না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হতো। দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ছাউনি নির্মাণের দাবি করে আসছিলেন যাত্রীরা।

দুই মাস আগে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নান্দাইল চৌরাস্তায় তিনটি, জামতলা বাজার, মুশুলী, কানুরামপুর এবং নান্দাইল সদরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে একটি করে মোট সাতটি ছাত্রী ছাউনি নির্মাণ করে। কিন্তু যাত্রী ছাউনি নির্মাণের সময় সেগুলো যাত্রীদের কতটুকু কাজে লাগবে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মুশুলী বাজার বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, মুশুলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে নির্মিত যাত্রী ছাউনি খালি পড়ে আছে। ছয় হাত উঁচু, ৩২ হাত দৈর্ঘ্যের ছাউনির মেঝে এবং একপাশের দেয়ালে লাগানো হয়েছে টাইলস। চালে লোহার মোটা ফ্ল্যাটবারের ওপর সবুজ রঙের প্লাস্টিকের টিন। যাত্রীদের বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে টাইলসে মোড়ানো লম্বা বেঞ্চ। সামনে থাকা টং দোকানদার আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আগে বাস এহানে থামতো, এহন আর এইহানে থামে না, থামে মুশুলী চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ডে।’ প্রায় কোয়াটার কিলোমিটার দূরের ওই বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সব ধরনের বাস সেখানে থামছে। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তাড়াইলগামী কাইয়ুম এন্টারপ্রাইজ পরিবহনের একটি বাসের চালক শিহাব উদ্দিন জানান, যাত্রী ছাউনি যেখানে করা হয়েছে সেখানে বাস থামে না, এখানেই সবাই থামায়। এখানে চারটি রাস্তার মোড়, থামলে যাত্রীদেরও সুবিধা। 

নান্দাইল চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নেত্রকোনা মোড়, ময়মনসিংহ মোড় এবং মাঝখানে সড়কের পশ্চিমপাশে একটি করে তিনটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হলেও পূর্বপাশে কোনো যাত্রী ছাউনি নেই। ময়মনসিংহ মোড়ে নির্মিত যাত্রী ছাউনির কাছাকাছি জায়গা থেকে বিআরটিসি বাস ছাড়লেও অন্য দুটির সামনে কোনো বাস থামছে না। খালি পড়ে থাকা যাত্রী ছাউনিগুলোর কোনোটিতে হকারদের আড্ডা বা শিঙাড়া-পুরির দোকান। স্থানীয়  সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রী আইব কোইত্থে! কোনো ছাউনির কাছেই বাস থামে না। আর থামলেই কি, গ্যাঞ্জাইম্যা সড়ক পার অইতে ভয় আছে না!’ 
নান্দাইল সদরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বাসযাত্রী চলাচল করলেও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে তা থেকে অন্তত ২০০ হাত পূর্বদিকে। পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা বাচ্চু মিয়া জানান, যাত্রী ছাউনি বানানো হয়েছে সড়কের মোড়ে, সেখানে বাস থামালে তো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কানুরামপুর গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব ও উত্তর দুটি বাসস্ট্যান্ডের মাঝখানে মোড়ে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণাধীন। এখান থেকে শুধু ত্রিশালগামী শালবন সার্ভিসের বাসগুলো চলাচল করে। সিংহভাগ যাত্রী বাকি দুই বাসস্ট্যান্ড ব্যবহার করছেন। বাসযাত্রী সুমন মিয়া জানান, এখান থেকে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ বা ভৈরবগামী যাত্রীরা যাত্রী ছাউনির কোনো সুবিধা পাবেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামতলা বাজার বাসস্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনিটিও একপাশে নির্মাণাধীন।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বিজয় বসাক বলেন, নান্দাইলে আটটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করার কথা থাকলেও সাতটির কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণে বরাদ্দ সাত লাখ টাকা। যাত্রী ছাউনিগুলো যাত্রীদের কাজে না আসার অভিযোগ সত্য নয়। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতের ভাষ্য, এখানে তিনি সবে যোগদান করেছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

আরও পড়ুন

×