ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিল তুলে ঠিকাদার লাপাত্তা, বিপদে ব্যবসায়ীরা

বিল তুলে ঠিকাদার লাপাত্তা, বিপদে ব্যবসায়ীরা
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালুচহাট মার্কেট নির্মাণকাজ শুরু হয় পাঁচ বছর আগে। মাঝপথে কাজ ফেলে ৮০ ভাগ বিল তুলে নিয়ে ঠিকাদার লাপাত্তা। এতে নির্মাণকাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিপদে পড়েছেন দোকানি ও ব্যবসায়ীরা। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালুচহাটের দোকানি-ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের জুন মাসে চারতলা ফাউন্ডেশনের ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার ৩১৬ টাকার কাজ পান বগুড়া শহরের খান্দার এলাকার মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হামিদুর রহমান। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। ঠিকাদারের গড়িমসির কারণে কয়েক দফা সময় পেছানো হয়। গত বছরের পাঁচ আগস্টের পর থেকে ঠিকাদারের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর থেকে একেবারেই বন্ধ রয়েছে কাজ। এরমধ্যে দোতলা পর্যন্ত কাজ হয়েছে। তবে বরাদ্দের ৮০ শতাংশ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বিভিন্নভাবে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখায় দোকানি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হাটের মুদি দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, ‘হাটের মধ্যে টিনের ছাউনি দিয়ে ঘেরা ঘরে ব্যবসা করে আসছিলাম। আমাদের পাকাঘর দেওয়ার কথা বলে দোকান ভাঙা হলো। কাজ শুরু হলে খুশি হই। পাকা ঘর পাওয়ার আশায় পাঁচ বছর কেটে গেছে। এখনও ভবনের কাজ শেষ হয়নি। কবে নাগাদ শেষ হবে কেউ বলতে পারছে না। হাটে দোকানদারি করার মতো বসার জায়গাও পাচ্ছি না।’ 

এ অবস্থা শুধু আফজাল হোসেনের না। তাঁর মতো অনেক দোকানি এবং ব্যবসায়ী একই কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে উন্নয়ন কমিটির মাসিক সভায় আলোচনা হয়েছে। দ্রুত ভবনের কাজ শেষ করতে সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরুখ খানকেও জানানো হয়েছে। তিনি উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ তথ্য জানান গুনাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ আবু তাহের। 
কাজের বিষয়ে কথা বলতে মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হামিদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। গত বছর পাঁচ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। 
উপজেলা প্রকৌশলী আবু তালিম হোসেন বলেন, চারতলা ভবনের মধ্যে দোতলা পর্যন্ত শেষের পথে। বাকি কাজ শেষ করতে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তাঁকে পেলে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×