ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃষকের বাড়ি দখলের ঘটনায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

কৃষকের বাড়ি দখলের ঘটনায়  যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
×

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে কৃষক পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়ি দখল ও লুটপাটের পর জমির ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরকাওনা বেলতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে সোমবার পাকুন্দিয়া থানায় ১২ জনের নামে লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি চরকাওনা বেলতলী গ্রামের প্রয়াত কাশের মিয়ার স্ত্রী। 

বাড়ি দখল ও ধান কেটে নেওয়ার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তের নাম মো. হারুন। তিনি জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। 

সাবিনা ইয়াসমিন জানান, চরকাওনা মৌজায় তাদের বাড়ি, জমিসহ ৭৩ শতাংশ জায়গা আছে। তাঁর স্বামী দেড় বছর আগে এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই একই গ্রামের যুবদল নেতা হারুন, বাদল মিয়া, বকুল মিয়া এবং বকুল মিয়ার দুই ছেলে কালাম মিয়া ও আকরাম হোসেনসহ কিছু ব্যক্তি এসব জায়গা দখল করার পাঁয়তারা করতে থাকেন। গত শুক্রবার দুপুরে হারুনের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির সীমানার বেড়া, বসতঘরের টিনের বেড়া ও দরজা-জানালা ভাঙচুর করেছে। এ সময় তিনি প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, নতুন ঘর নির্মাণের জন্য রাখা ৬ লাখ টাকাসহ অন্যান্য মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি জমির কিছু ধানও কেটে নিয়ে গেছে। এ সময় পাশের বাড়ির আত্মীয় বিল্লাল মিয়া বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাঁর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। তিনি হাসপাতালে আছেন। পরে হামলাকারীরা তাঁর বাড়ির সীমানায় বাঁশের বেড়া দেয়। যেন তাদের পরিবারের কেউ বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন। পরে তিনি ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে হামলাকারীদের সরিয়ে দিয়ে বাঁশের বেড়া খানিকটা উন্মুক্ত করে দেয়। 

সাবিনা ইয়াসমিনের শাশুড়ি রেজিয়া খাতুন, দেবর কফিল উদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিবেশী বকুল মিয়াদের জায়গা ১৯৭৯ সালে তারা দলিলমূলে কিনেছেন। এ জমি খারিজ করে নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করছেন। তাদের নামে আরএস রেকর্ডও হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে বকুল মিয়ার পরিবার এসব জায়গার মালিকানা দাবি করে দখলের পাঁয়তারা করছিলেন। কিছুটা জায়গা দখল করে একটি ঘরও উঠিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, হারুন যুবদল করেন বলে এখন দলীয় প্রভাবে এসব করছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন বলেন, সাবিনা ইয়াসমিনদের পরিবার প্রভাবশালী। যে কারণে ৪৬ বছর ধরে তাদের জমি তারা ভোগদখলে রেখেছে। এসব নিয়ে অনেক সালিশও  হয়েছে। তারা সালিশ মানেন না। 
পাকুন্দিয়া থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, সাবিনা ইয়াসমিনের অভিযোগটি তদন্তসাপেক্ষে মামলা রেকর্ড করা হবে।

 

আরও পড়ুন

×