ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চুরির অভিযোগ

যুবককে নাকে খত দিয়ে গ্রাম ঘোরালেন বিএনপি নেতা

যুবককে নাকে খত দিয়ে গ্রাম ঘোরালেন বিএনপি নেতা
×

প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে তৈরি।

হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫ | ১৮:০৪ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২৫ | ২০:২০

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে চুরির অভিযোগে এক যুবককে নির্যাতনের পর নাকে খত দিয়ে গ্রাম ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের ৯ নম্বর সওয়ার্ডের কালিশংকরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। 

নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের নাম রসুল আলী (২৮)। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

গত শুক্রবার রাতে ওই গ্রামের পল্লী চিকিৎসক এনামুল হকের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন বেলা তিনটার দিকে সালিশের নাম করে ওই যুবককে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করেন গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, যুবককে মাটিতে শুইয়ে নাক মাটিতে ঘষতে ঘষতে গ্রামে ঘোরাচ্ছেন একজন ব্যক্তি। সেই দৃশ্য দেখছেন গ্রামবাসী। একপর্যায়ে তাকে তুলে তিনবার কান ধরে উঠবস করানো হয়। এরপর তাকে মারতে মারতে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় কেউ এ বিচারের বিরুদ্ধে কথা বললে তারও বিচার করা হবে বলে চিৎকার করে বলতে থাকেন কয়েকজন ব্যক্তি।

সমকালের অনুসন্ধানে যুবককে নাক খত দিয়ে গ্রাম ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ানো বিএনপি নেতার পরিচয় মিলেছে। ওই নেতার নাম সিরাজুল ইসলাম। তিনি ভায়না ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। ঘটনা স্বীকার করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে গ্রামের এনামুল ডাক্তারের বাড়িতে গরু চুরি করতে গিয়েছিল ওই যুবক। পরিবারের লোকজন জেগে ওঠায় সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী পরিবার বিচার দিলে দুই গ্রামের মাতব্বরা মিলে ওই যুবকের নাকে খত দিয়ে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। 

আইন পরিপন্থি বিচার আপনি করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘পুলিশে দিলে ওর বড় ক্ষতি হতো। তাছাড়া গ্রামের লোকজন হাত-পা ভেঙে দিতে চেয়েছিল। আমি দেখলাম ছেলেটার এতবড় ক্ষতি করে লাভ কী? তাই মাত্র দশ হাত নাকে খত দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি।’

পল্লী চিকিৎসক এনামুল হক জানান, তার বাড়িতে রসুল আলী গরু চুরি করতে ঢুকেছিল। তার ছেলে ও পরিবারের অন্যরা ঘটনা বুঝতে পারলে পেলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তিনি গ্রামের মাতব্বরদের কাছে বিচার দেন। অভিযুক্ত রসুলের বাবা তার কাছে ক্ষমা চাইতেও এসেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে রসুলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাবা আব্দুল মান্নান এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

ভায়না ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা তুষার বলেন, ‘এমন ঘটনার কথা আমিও শুনেছি। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারছি না।’

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, আইন বহির্ভূত এমন সালিশ কেউ করতে পারে না। এ বিষয়ে নির্যাতিত ওই যুবক বা তার পরিবারের কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। তবুও বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।

আরও পড়ুন

×